যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। কয়েক দিনের ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত লঘুত্ম হয়েছে। গ্রিনউইচ মান সময় রাত ২টা পর্যন্ত আগস্ট সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৪৩ ডলার — যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের স্তরের তুলনায় মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উক্তি প্রকাশ্যে আসার পর ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়েছিল। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি খারাপ আচরণ অব্যাহত রাখে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যেকার অস্থায়ী সমঝোতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি শান্ত করলে জ্বালানির বাজারে তা ইতিবাচক প্রতিফলিত হলো।
জ্বালানি বাজারে স্বস্তির পাশাপাশি বিশ্ব পুঁজিবাজারে ইতিবাচক স্রোত দেখা গেছে। মার্কিন প্রধান শেয়ার সূচকগুলি এবং এশিয়ার বাজারগুলোতে ওঠানামা শেষে নিশ্চিত উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষত জাপানের নিখুঁত সূচক নিক্কেই ২২৫ এবং ইতালির এফটিএসই এমআইবি-তেও লাভ হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য সহায়ক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর হয়েছেঃ ইরান তৎক্ষণাৎ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে। যদিও এই ঘোষণা বাজারে স্বস্তি এনে দিল, তবুও হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। বর্তমানে অন্তত ৫০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই প্রণালী হাড়িয়ে নিরাপদে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বিস্তারিত নিরাপদ রুট সংক্রান্ত নির্দেশনা না থাকায় জাহাজ মালিক ও চালকরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
বিশ্বের অন্যতম বড় জাহাজমালিক সংগঠন বিমকো (Baltic and International Maritime Council) এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি সরল নৌ চলাচলের সতর্কতা রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিমকোর প্রধান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকব লারসেন বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও নিরাপদ নাবিকাগিরি নির্দেশনার অভাবে এই জলপথকে এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। তিনি জাহাজ মালিকদের পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন চালিয়ে যেতে এবং নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ করেন।
সার্বিকভাবে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই সূচনাটি বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরতে হলে কূটনৈতিক বাস্তবায়ন, নির্দিষ্ট নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কার্যকরভাবে চালু হওয়া জরুরি হবে।














