ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চার সেনা নিহতের পর ইসরায়েলি মন্ত্রীর উস্কানিমূলক ঘোষণা: ‘পুরো লেবানন পুড়ে যাক’

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটির পর ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া মন্তব্যটি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) তিনি এক্সে পোস্ট করে ক্ষোভ উগর করেছেন এবং বলেছেন, ‘একজন ইসরায়েলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুর বদলে হাজারো লেবাননির চোখে পানি ঝরবে’—এর পরেই তিনি আরো বলে দেন, ‘পুরো লেবানন পুড়ে যাক।’ মন্ত্রীর এই উস্কানিমূলক ধাঁচের মন্তব্যে নীতি নির্ধারণে কড়া শক্তি প্রয়োগের কথাও জানিয়েছেন।

অপস্থিত পরিমণ্ডলে মন্ত্রীর মন্তব্য দ্রুত সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সত্যিকারের কূটনৈতিক নীতির অভাবে সরকারের দিকে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারা—ইসরায়েলের আচরণে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এমন অবস্থায় অব্যাহত নীতিকেই আলোকপাত করে সতর্ক করেছেন যে, “সরকারটি বদল না হলে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” লাপিদ এছাড়াও বলে দিয়েছেন যে, দেশীয় কট্টরপন্থী মন্ত্রণালয় ও নেতানিয়াহুর কূটনীতি নানা আন্তর্জাতিক অনসঙ্গতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মাঠেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। রাজনৈতিক বিদ্রোহের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ওপর বোমাবর্ষণ চালায়; লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, ভোররাত থেকেই নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বোমাবর্ষণ হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন; তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই আঘাত করছে এবং এই অভিযানকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে বলেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় তারা ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অগ্রসর দলকে অতর্কিতে আক্রমণ করে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা গাইডেড মিসাইলের মাধ্যমে তিনটি মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং ভারী রকেট ও গোলন্দাজ হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষও তাদের চার সেনার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে—যা এই সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগেও ঝটকা দেখা দিয়েছে। সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি প্রয়োগের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষনীতিবিদ সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেছেন, এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা চললেও মাঠে পাল্টা-প্রতিপাল্টি হামলার কারণে পরিস্থিতি অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত করে বললে, দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং তার উত্তরে রাজনৈতিক নেতাদের উস্কানিমূলক ও সমালোচনামূলক বক্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক চাপ তৈরি করেছে। আহত ও নিহতদের সংখ্যার সাথে সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিততায় ডুবে আছে।