ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডিএসই চিহ্নিত করল ৪২ কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’—বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দেশে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কোম্পানির ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এতটাই প্রবল যে আগামী ১২ মাসের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিহ্নিতকরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার নয়, বরং গতকালের ডিএসই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় এই তথ্য সরাসরি জানানো হয়েছে।

ডিএসই বলেছে, কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষকদের নজরে আসা বিরূপ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মোটামুটি দুর্বল আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা ও তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা—সাথে বাজারে কৃত্রিম কারসাজি প্রতিহত করাও অন্যতম লক্ষ্য।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিভিন্ন গুরুতর সমস্যায় ভুগছে—দীর্ঘমেয়াদি লোকসান, স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকা উৎপাদন ইউনিট, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এবং খুবই দুর্বল ক্যাশ ফ্লো। উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে: পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জুট স্পিনার্স, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, তাল্লু স্পিনিং মিলস এবং শ্যামপুর সুগার মিলস।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, নিরীক্ষকদের ‘গোয়িং কনসার্ন’ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ অতি উদ্বেগজনক। এটি শুধুই ওই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে সমস্যা নয়—সম্পূর্ণ শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এ থেকে প্রভাবিত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোম্পানি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোক্তারা যদি দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না নেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম ডিএসইর এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, ফ্রন্টলাইন রেগুলেটর হিসেবে ডিএসইর দায়িত্বের অংশ হলো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে প্রকাশ করা। আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিয়ে ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি লোকসান বা নিরীক্ষকের বিরূপ পর্যবেক্ষণ থাকে, সেগুলো প্রকাশ করা বিনিয়োগকারীদের সুশিক্ষিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে এবং বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

ডিএসই অনুরোধ করেছে, যে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ খুঁটিয়ে দেখুন। এই ধরনের সতর্কবার্তা বাজারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে—যা দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের ভরসাকে শক্তিশালী করবে।