প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, ঝিনাইদহে ভাঙচুর করা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, ভাস্কর্যটি নির্মাণগত ত্রুটির কারণে বরাবরই বিতর্কের বিষয় ছিল, তাই উপযুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের এই বীরের অবয়ব যথাযথভাবে তুলে ধরে নতুন একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় দশ বছর আগে ভাস্কর্যের কাজ শুরু হলেও তা শেষ করা হয়নি এবং এ নিয়ে দুইটি যৌক্তিক অভিযোগ উঠেছে।
প্রথমত, ভাস্কর্যের আবক্ষ মূর্তিটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত চেহারার সঙ্গে মিলছে না। দ্বিতীয়ত, বেদীটি অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় সেটি সড়কের মোড়কে রেখে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই কারণেই স্থান ও নকশা পুনর্বিবেচনা করে নতুন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ডা. জাহেদ আরও বলেছেন, জেলা প্রশাসনও এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে মানসম্মত ও উপযুক্ত স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পটভূমি: ২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তার মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘ বিলম্বের পরও কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়নি; ২০১৬ সালে আংশিক নির্মাণের পর কাজ আটকে পড়ে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই দিনের বিকেলে শত শত মানুষ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে আক্রমণ চালিয়ে সেটি ভাঙচুর করে। এরপর কিছু শ্রমিক গত বুধবার থেকে আবার ভাস্কর্য ভাঙার কাজ শুরু করলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছড়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে জনমত ও সমালোচনা শুরু হয়।
এই প্রতিবেদনগুলো উঠে আসার পরে রোববার থেকে ভাস্কর্য ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন এখন বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করে নতুন নকশা, উপযুক্ত স্থান ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।














