ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

লিবিয়ায় মানবপাচারের শিকার কুমিল্লার ছয় যুবক, মুক্তিপণ দাবি দেড় কোটি টাকা

ইতালি পৌঁছে ভালো জীবন ও উচ্চ আয়ের আশায় বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পথে লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের জালে আটক হয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ। তাদের মুক্তির বিনিময়ে মোট দেড় কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়।

জিম্মি রাখা ও নির্যাতন বিষয়ক অভিযোগ জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে সাহায্য চাইেছেন। তারা জানান, অভিযোগ না মানার কারণে লিবিয়ায় তাদের সন্তানদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং নির্যাতনের অডিও-ভিডিও বারবার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

জিম্মি থাকা ছয় যুবকের নাম ও বয়স — দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

পরিবারগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমধ্যসাগর পার হয়ে অবৈধ পথে ইতালি পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি পেয়ে প্রায় এক বছর ধরে কয়েকজন যুবক দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই স্থানীয় ও দেশীয় মানব পাচারকারী চক্র তাদের দালালদের হাতে তুলে দেয় এবং সেখানেই তারা জিম্মি হন।

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান বলেন, একই গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে তার ছেলে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা হয়। সে সময় মানিকুলের ভাই সামছুল আলমকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও লিবিয়ায় পৌঁছে মানিকুলকে দালালচক্রের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে তার ছেলে জিম্মি ও নির্মম নির্যাতনের শিকার।

আবার বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, প্রায় ৮ মাস আগে একই দালাল সামছুল আলমের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করে তিনি ছেলেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পাঠান। এখন তার ছেলেও দালালচক্রের হাতে জিম্মি এবং মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, চক্রটি মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তারা ধারাবাহিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন এবং ওই নির্যাতনের ভিডিও-অডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১০–১২ দিন ধরে অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলম ও তার পরিবারের কিছু সদস্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। লিবিয়ায় অবস্থানরত কথিত মূল দালাল মানিকও এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ফোন রিসিভ করছেন না বলে তারা বলেন।

ভুক্তভোগীরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ও প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের সন্তান স্বজনদের অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি বা থানা পুলিশকে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কিংবা দালাল-মানবপাচারের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।