ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে মিঠামইন ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকা বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে শনিবার (১৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর স্বাক্ষরিত। সিদ্ধান্তটি জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ অনুমোদন করেছেন।

এই সিদ্ধান্তটি আসে গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে তার নিজ বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় হত্যা করার ঘটনা থেকে। ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা একজন সন্দেহভাজনকে চাপাতি নিয়ে আটক করলে পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডটি মাত্র এক মিনিটের একটি পরিকল্পিত হামলায় সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় জড়িত তিন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগে মিঠামইনে এসে ছিলেন এবং জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে অবস্থান করতেন। ওই বাড়িটি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার বড় ভাইয়ের বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, হত্যাকারীদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করে আনা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করেছেন, মোকাররম হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার পর নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী শুক্রবার রাত সাড়ে বারটার দিকে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনকে নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নামযুক্ত তিন আসামির পরিচয় দেওয়া হয়েছে— মো. হেলাল (২৪) (বরগুনা বাঁমনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে), মহিন উদ্দিন (৩২) (লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে) ও মো. শাহিন আলম বা শাকিল (২৭) (রামগঞ্জ মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে)।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয়রা মো. হেলালকে আটক করেন; পরে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আরও দুইজন—ঘাগড়া শেখেরহাটির ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)—কে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ কক্ষে বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য রবিবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রত্যেক আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল; শুনানির পর আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থেকে জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।