ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কমিশন বাড়ানোর দাবি: ৩০ জুলাই সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, যদি তাদের দাবি না মানা হয় তাহলেই আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লেখিত বক্তব্য পাঠ করে জানান, ৩০ জুলাই বন্ধ থাকবে এবং ঐ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে; কিন্তু সমাধান না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট করা হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা জানান, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি ও বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি তুলেছে — অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর দাবি।

তাদের আরও দাবি, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হোক। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরনো গ্রাহকদের কাছ থেকে পুনরায় জামানত নিচ্ছেন না; পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি ও অন্যান্য সরকারি লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, তারা অতিরিক্ত মুনাফার দাবি করছেন না; সরকারের আগের হিসাব, মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিন সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশকে ভিত্তি করে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের দাম বিবেচনায় ২০২৪ সালের শুরুতে ওই মার্জিন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

সরকারের প্রতিশ্রুতিমতো গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয় করলে আরও ৩ টাকা ৩০ পয়সা যুক্ত হওয়ার কথা এবং বিদ্যুতের দামের কয়েক ধাপে বাড়ার প্রভাবে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ হয়েছে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতে তাদের ন্যায্য দাবি প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ১০ পয়সা ছিল। গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়লে খরচ প্রতি ঘনমিটারে আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে—তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের বৃদ্ধি হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধিই বিবেচনায় নিয়ে তারা ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন দাবি করছে, বলেন ফারহান নূর।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের অভিযোগ নিয়ে বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ফল মেলেনি এবং মন্ত্রির সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও মেলেনি। তাই গত শনিবার জরুরি সাধারণ সভা ডাকিয়ে ১২ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।