ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মডেল মসজিদ নির্মাণের নামে প্রকল্পের ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার ঘটনা অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক। যারা ইসলামের নামে এই অনিয়ম করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয় আলাদাভাবে তদন্ত করার নির্দেশ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে, তিনি আরও বলেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে ধর্ম মন্ত্রীর পক্ষে জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। মসজিদের নামে করা এসব অনিয়ম শুধু দুর্নীতিই নয়, বরং ধর্মীয় সন্মানের অবমাননাও উল্লেখযোগ্যভাবে জড়িত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Debapriya Bhattacharya–র শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে বৃহৎ মাত্রায় দুর্নীতির চিত্র সেখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; সময় ও ব্যয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে লুটপাট করা হয়েছে। মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও একই রকম ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে কি না, তা যাচাই করার লক্ষ্যে সরকার আরম্ভিক ও বিস্তৃত তদন্ত করবে। এ তদন্ত প্রক্রিয়ায় দেশের অন্যান্য সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

প্রশ্নোত্তরের সময় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করেন, অধিকাংশ মডেল মসজিদ মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়নি এবং নির্মাণের পরপরই অনেকগুলোই ভেঙে পড়ার উপক্রম। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা সেনবাগে অবস্থিত মডেল মসজিদটির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে মসজিদের প্রবেশমুখ সর্তকতাজনক এবং ছাদ থেকে পানি পড়ছে—ঘটনাটি নিরাপত্তাহীনতার পরিচায়ক।

এমনই শর্তে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও সংসদে একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। সংসদীয় আলোচনা থেকে স্পষ্ট, মডেল মসজিদ নির্মাণ ও ব্যয় সংক্রান্ত দুর্নীতিদের দ্রুত চিহ্নিত করে তুলনামূলক তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া সরকারী অগ্রাধিকার হবে।

সংক্ষিপ্তভাবে, সরকার মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও খরচের প্রতিটি দিক আলাদাভাবে খতিয়ে দেখে সঠিকতা স্বরূপ ব্যবস্থা নেবে—এটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি।