প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বরিশালে সফর করেছেন তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পৌঁছান। এক দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেকগুলো কর্মসূচির মধ্যে আমরা সারাদেশে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু রাখতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।”
প্রধানমন্ত্রী রোপণকৃত চারার সঠিক যত্নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, “আজ এখানে দুই হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ চারা রোপণের পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তার পরপর বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। শিশুটাকে যত্ন সহকারে গড়ে তোলা হচ্ছে আসল কাজ। তাই আজ যে গাছের চারা রোপণ করা হবে, সেটি নির্দিষ্ট সাইজে বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।”
বৃক্ষরোপণের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুরে কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন; সেখানে তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এবং জিআই স্বীকৃত আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজে হাতে রোপণ করবেন।
বিকালে তিনি বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এই সফরে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়নি। গৌরনদী থেকে বরিশাল শহর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দু’পারে স্থানীয় জনতা ও দলীয় কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ে তাঁকে সাদর অভিনন্দন জানান। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর উপলক্ষে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ও যাবতীয় লজিস্টিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। সকল নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যার দিকে তিনি রাজধানী ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।












