ঢাকা | শুক্রবার | ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের নাক গলানো গ্রহণযোগ্য নয়: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশ যেন কখনোই প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জায়গা না হয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রতিবেশী হস্তক্ষেপ করুক—এসা আমরা মোটেও চাই না। তিনি এই মন্তব্য করেছেন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।

চিফ হুইপ বলেন, ‘‘ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙার ঘটনাগুলো ঘটছে, বাংলাদেশে কি সে একই রকম মন্দির ভাঙার ঘটনা হচ্ছে?’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে নেয় বা প্রতিক্রিয়া দেখায়—এসবই তাদের কার্যকলাপে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দেশ বাঁচানোর প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পায়, সেই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজেটপ্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বিরোধীদলও গ্রহণ করেছে; তাই এই বাজেট বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি এ বাজেটকে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের এক ‘অনন্য দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন স্বাধীনতার পর এমন জনপ্রিয় ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আগেও হয়নি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই বাজেটের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রীও এটিকে ‘মানুষের বাজেট’ ও ‘জনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সরকার গ্রহণের আগ পর্যন্ত আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি—একদিনে ডলারের দাম সাত টাকা বেড়ে গেছে, কয়েকটি ব্যাংক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিতে হয়েছে। অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। এজন্যই সরকার কেবল অবকাঠামো নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

চিফ হুইপ বলেন, ‘‘জনপ্রিয় মেগা প্রকল্পের বদলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এ প্রকল্পগুলো শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা ও দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। এগুলো প্রদর্শনমূলক নয়, বাস্তব প্রয়োজন পূরণে কেন্দ্রীয় ভ‚মিকা পালন করবে।’’

তিনি আরও জানান, সরকার ২৫ কোটির বেশি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য—কেউ যেন না খেয়ে থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলও এই প্রথম আগাম অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় নির্ধারিত ২৬ শতাংশ সময়ের বদলে বিরোধী দলকে সময় বাড়িয়ে অনুপাতে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্যের সুযোগ পেয়েছেন। এক পর্যায়ে বিরোধী দলের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলের উপর প্রদত্ত প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন—চিফ হুইপ এটিকে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দেশ গড়ার আন্তরিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

সরকারি ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে কার্ড প্রদানের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের মৌলিক সংস্কার আনতে সংবিধান সংশোধন অবশ্যম্ভাবী; আশা প্রকাশ করে বলেন, সবাই মিলে আমরা এই সংশোধনী সম্পন্ন করতে পারব।

সংক্ষিপ্তভাবে তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।