আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০এস হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সমুদ্রে ডুবেছে; দুর্ঘটনায় থাকা চার আরোহীর মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ঘণ্টা তিনটা ৩০ মিনিটের দিকে নিয়মিত টহলের সময় বুধবার দিবাগত রাত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, হারিয়ে যাওয়া ওই সেনাসদস্যকে খুঁজতে তৎপরতা চলছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। তারা একইসঙ্গে জানিয়েছেন যে এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতামূলক কার্যক্রম বা শত্রুপক্ষের হস্তক্ষেপ থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া তিন আরোহীকে বর্তমানে বিপদমুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরীর এয়ারক্রাফট বহরের অংশ ছিল। এই রণতরী বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টহলরত দুটি প্রধান মার্কিন নৌযানগুলোর একটি; অপরটি হলো ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। ঘটনার ঠিক সময়ে হেলিকপ্টারটি রুটিন টহলে ছিল।
মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ সৈনিকের সন্ধানে নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারদল সক্রিয়ভাবে সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে। ট্রায়াল বা তদন্ত চালিয়ে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় ও পুনরায় এমন ঘটনা প্রতিরোধ করাই প্রাথমিক লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপটে স্মরণ করানো হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনব্যাপী সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র কিছু সামরিক বিমান ও এয়ারক্রাফট হারিয়েছে। করোন বর্তমান এই চপার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। গত জুনে হরমুজ প্রণালিতে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক গোলযোগে বিধ্বস্ত হয়েছিল; তখন পাইলট নিজে অক্ষত রয়েছেন।
বর্তমান উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান কবে পর্যন্ত চলবে তার নির্দিষ্ট সময় এখনও বোঝা যাচ্ছে না। নৌবাহিনী দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে এবং নিখোঁজ সেনাসদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করতে জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছে।














