ঢাকা | শুক্রবার | ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢামেক পরিদর্শনে যাচ্ছেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শনে আসবেন। এই তথ্য তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অনুষ্ঠিত অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ল্যাব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান। মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও থাকবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং ঢামেকের চিত্র বদলে যাবে। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন যে চিকিৎসা সেবা আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী জানান, জুলাই ও আগস্টে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তবু যে কোনো জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে ব্যবহারের জন্য এনএসওয়ান (NS1) পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে; রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেছিলেন যে ইউনিয়ন স্তর থেকে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে দেশের চিকিৎসাসেবা প্রদানে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট এবং স্যালাইনের মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা আছে। বৃহত বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও ‘মোবাইল হাসপাতাল’ চালু করার মতো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ঢামেক প্যাথলজি বিভাগের কাছে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ হস্তান্তর। চিকিৎসকরা আশা করছেন, এই যন্ত্রটি ক্যানসার শনাক্তকরণকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলবে, যার ফলে রোগীদের দ্রুত সেবা ও সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা মিলবে।

সাধারণভাবে, অনুষ্ঠানটি হাসপাতালে প্রযুক্তি ও প্রস্তুতি বাড়ানোর সংকল্পকে সামনে এনেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে রোগমুক্তি ও সেবা সম্প্রসারণে যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা জনগণের কাছে তুলে ধরেছে।