প্যারাগুয়ের কাছে নকআউট হার আর দর্শকের ও কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ দৃষ্টি — এসবের দায় কাঁধে নিয়ে জার্মান জাতীয় দলের প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। রাউন্ড অফ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ পরাজয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি; যদিও সংবাদমাধ্যম বিল্ড ও স্কাই জার্মানির রিপোর্টে নাগেলসম্যানের পদত্যাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রাঙ্কফুর্টে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এক জরুরি বৈঠক চালিয়ে ৩৮ বছর বয়সী কোচ নিজেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচটি নিয়মিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১-১ তে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে জার্মানি ৪-৩ হেরে বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর এটি ছিল জার্মানির ধারাবাহিক তৃতীয় বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া — এই চরম ব্যর্থতার দায়ও নিয়েছেন নাগেলসম্যান।
তার চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত থাকলেও নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে দায়িত্ব ছাড়ায় তিনি প্রায় ৭০ লাখ ইউরো ক্ষতিপূরণের দাবির যোগ্য হতে পারেন, প্রকাশিত সূত্রগুলোতে এটাই বলা হয়েছে।
নাগেলসম্যান ২০২৩ সালে হ্যানসি ফ্লিকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছিলেন এবং শুরুতে দলের পারফরম্যান্সে কিছু ইতিবাচক সুর দেখা গিয়েছিল। তবু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁর পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয়নি, আর প্যারাগুয়ের মতো আন্ডারডগের কাছে হার সমর্থক ও ফুটবল সংশ্লিষ্ঠদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল।
পরবর্তী কোচ হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি নাম জোরে ছড়িয়ে পড়েছে সাবেক লিভারপুল ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের। বর্তমানে তিনি রেড বুল গ্রুপে গ্লোবাল হেড অব সকার হিসেবে কাজ করছেন; বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে তাঁর চুক্তিতে জাতীয় দলের জন্য রিলিজ ক্লজ থাকতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মান ফুটবলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ক্লপকে যোগ্য জমজ মনে করা হচ্ছে।
ডিএফবি থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পেলেই পরবর্তী দায়িত্ব গ্রহণ ও কোচ খোঁজের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশের ফুটবল কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে— তা নির্ভর করবে আগামী সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার উপর।














