২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়কে কেন্দ্র করে ফিফা ও এর প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলার (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করা একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি, যিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক এবং ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টাও বলায় পরিচিত।
আফ্রাসিয়াবি অভিযোগ করেছেন যে, ২৬ জুন ইরান ও মিশরের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ভিএআর ব্যবস্থার অপব্যবহার ইরানের বিদায়ের মূল কারণ। ওই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র শেষ হয়; কিন্তু শেষক্ষণে ইরানের একটি গোল ভিএআর দেখে অফসাইড হিসেবে বাতিল করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ওই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত ‘‘সম্পূর্ণ ভুল’’ ছিল এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আফ্রাসিয়াবি আরো দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯১ মিলিয়ন ইরানি সমর্থক মানসিক কষ্ট ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদিও এসব তথ্য ও সংখ্যাগুলো মামলার অভিযোগভিত্তিক এবং আদালত সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবু অভিযোগগুলোর তীব্রতা ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মাঠের ঘটনার বাইরে আফ্রাসিয়াবি অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আয়োজক ও ফিফা কর্তৃপক্ষ ইরানিকে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে—রাতে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা, প্রশিক্ষণ শিবির হঠাৎ করে স্থানান্তর এবং দলের ১১ জন বড় কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা তিনি ‘দ্বৈতনীতি ও বৈষম্যের’ প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আফ্রাসিয়াবি দাবি করেন, এসব বাধা ও বৈষম্যমূলক আচরণ দলের মনোবল ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং সমর্থকদের ভাবে তাদের মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়েছে। মামলায় এসব কারণে ইরান ও তার সমর্থকদের আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, মামলায় জিতলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের বড় অংশ ইরানের যুব ক্রীড়া ও ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কানুনগতভাবে এই মামলা ফিফার মতো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে এত বড় রকমের আইনি লড়াই হিসেবে নজিরবিহীন বিবেচিত হচ্ছে।
ফিফা বা তার নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত এই মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে মামলা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে—কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের বিবেচনার পরেই চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
সংক্ষেপে, মামলাটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে এবং ভবিষ্যতে কিভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।














