প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না এবং এসবের নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একটি দৃষ্টি দেখিয়েছিলেন যেখানে সকলেই আশ্রয় পায়—ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে। তিনি বলেন, ‘‘সেই ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সেখানে প্রত্যেকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত ছিল।’’
জাতীয় পরিচয় প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, ‘‘আমি ‘বাঙালি’ বললে কখনো কখনো অস্পষ্টতা দেখা যায়—আপনি কোন দেশের বাঙালি? আমেরিকার, ফ্রান্সের, পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরার? কিন্তু ‘বাংলাদেশি’ বললেই এক অনন্য অনুভূতি জাগে—আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশের নাগরিক; আলাদা পতাকা, আলাদা মানচিত্র, আলাদা জাতীয় সংগীত ও ভাষা আমাদের আছে, আর কোনো বিপদে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।’’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওই আন্দোলনে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ছিল। ‘‘সেদিন মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান—সবারই মাঠে রক্ত পড়েছে। আজও দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এক কাতারে এসে মিলিত হয়েছেন—সমতলের সাঁওতাল, রাজবংশী থেকে পাহাড়ের জনগোষ্ঠী পর্যন্ত সবাই একই ব্যানারের নিচে আছেন।’’ তিনি বলেন, দেশের মানুষের এই ভ্রাতৃত্ব কেউ ভাঙতে পারবে না।
রিজভী আরও বলেন, স্বাধীনতা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়বে এবং যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার শান্তি কামনা করে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়; সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ তাকে অভিভূত করেছে এবং তিনি সেই অংশগ্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার নিচে, তাদের আয়কর দিতে হবে না। এছাড়া মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের প্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। সব সিদ্ধান্তই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে, জানান রিজভী।
একই সময় শিক্ষা খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এবারের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং যাতে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়া।













