ঢাকা | শনিবার | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিসিবির অর্থায়ন স্থগিতের আবেদন জানালেন আমিনুল ইসলাম ‘বুলবুল’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে বোর্ডের তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে তিনি আইসিসির কাছে একটি ১৪ পৃষ্ঠার চিঠি জমা দিয়েছেন যেখানে বর্তমান বিসিবি প্রশাসনের বৈধতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

চিঠিতে আমিনুল নিজেকে বৈধ সভাপতি হিসেবে পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাই পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিসিবিকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ রাখার অনুরোধ তুলেছেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিসিবি তাদের আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। আমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করেননি।

ঘটনার পটভূমি জানলে দেখা যায়, গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী বিসিবি ভেঙে দেয়া হয়। প্রতিবেদনে গত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আসায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

এর পর অনুষ্ঠিত ৭ জুনের নির্বাচনে তামিম ইকবাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের মেয়াদের জন্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন। সরকার প্রধানত আমিনুল ও বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল।

অতিরিক্ত দিকে, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমিনুল ইসলাম আইসিসির ‘ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ হিসেবে কাজ করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বানে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। αρχικά তিনি আইসিসিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তী সময় দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ ও এনএসসি কর্তৃক ফারুক আহমেদের কাউন্সিলর পদ বাতিল হওয়ার ঘটনাসহ একাধিক জটিলতায় আমিনুলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাঁর মেয়াদ আকস্মিকভাবে শেষ হয়। বর্তমানে আইসিসির কাছে থাকা সেই চিঠি ও বিসিবির উপর অর্থায়ন স্থগিত রাখার দাবি বিষয়টি কীভাবে বিচার করা হবে, তা ক্রিকেট মহলে নজর কাড়ছে।