ঢাকা | শনিবার | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ৫৮৯, আহত প্রায় ২ হাজার ৯৮০

লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলায় গত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে; আহত প্রায় ২ হাজার ৯৮০ জন। দেশটির ইতিহাসে স্মরণীয় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু বাড়ি ও বহুতল ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনী রাতদিন পরিশ্রম করে জরুরি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকজনকে জীবিত উদ্ধার করার তৎপরতা অব্যাহত আছে। দুর্যোগ-পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন উইন্ডো’–র মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে সর্বোচ্চ জোর দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। শত শত ধ্বংসস্তূপ উঠে দিয়ে উদ্ধার করা হলেও, অভিযানের শুরুতেই বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রশাসন জানাচ্ছে, বড় বড় ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাড়লে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই উদ্ধারকারীরা যতটা সম্ভব দ্রুত ও সতর্কভাবে অপারেশন চালাচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বির্তকৃত পরিস্থিতিতে দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিদেশি দক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলোর দ্রুত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাদের প্রচেষ্টা উচ্চ মর্যাদায় উল্লেখ করেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বহু স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারীরাও কাজ করছেন; আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি আশ্রয় ও সেবা প্রদান করা চলছে।

রাজধানী কারাকাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে বৃহৎ জরুরি মজুদকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন হাজার হাজার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার ও স্থানীয় সংগঠনগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণমূলক সহায়তা দিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।