রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে এবং শহরটিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোস্ত্যন্তিনিভকা কোনো এক পক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নেই—এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চল’ হয়ে উঠেছে।
কোস্ত্যন্তিনিভকা দনবাস অঞ্চলের অগ্রদ্বার হিসেবে বিবেচিত। এই শহরটি যাঁতায়াত ও সামরিক অগ্রগমন নিয়ন্ত্রণে গেলে রুশ বাহিনী সরাসরি ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হতে পারবে। তাতে মস্কোর জন্য দনবাস জুড়ে লক্ষ্যনীয় অগ্রগতি লাভ করা সহজ হয়ে উঠবে।
বিবিসিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট, ‘তারা আমাদের এলাকায় পেছন থেকে ঢুকে পড়ছে। শহুরে লড়াইয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া খুব কষ্টসাধ্য।’
কয়েক মাস ধরে সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ এক ধরণের স্থবিরতায় ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা দাবি করেছেন, এই বছরে তারা হারানোর তুলনায় বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার সঙ্গে মস্কোর সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবুও কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ থেকে আক্রমণ শুরু করে এখন শহরের উত্তরপ্রান্তেও উপস্থিত হয়েছে।
মস্কো দাবি করে তাদের বাহিনী শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করেছে। কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। শহরের প্রতিরক্ষায় থাকা ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে; শত্রু সফল হয়নি।’ তবু তিনি স্বীকার করেছেন শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ রুশ সৈন্য রয়েছে।
শহরের ভেতরে লড়াইয়ের এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করে) বিবিসিকে বলেন, প্রশাসন সামনে যা দেখাচ্ছে তার চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি গুরুতর। তিনি বলছেন, ‘আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও আক্রমণকারী দল কাজ করছে, কিন্তু রুশরা ক্রমেই সেখানে আরও জোরালোভাবে সেনা জড়ো করছে।’
রুশ সৈন্যরা গ্রীষ্মের গাছপালা আর প্রতিটি ভবনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে; অনেক সময় তারা দিনে মাত্র ১০০ মিটার হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে—এভাবে ইউক্রেনীয় ড্রোন এড়াতে।
বর্তমানে রুশ বিমানবাহিনী ও ড্রোন অপারেটররা ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট জানান, জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা তাদের ক্লান্ত করে তুলছে। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘আমরা শত্রু পাইলট খোঁজার বদলে তাদের পদাতিক বাহিনীকে থামাতে ব্যস্ত থাকায় তারা সহজেই আমাদের অবস্থান শনাক্ত করে আঘাত করছে এবং আমাদের পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।’
পাইলটরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। রুশ বাহিনী এত কাছাকাছি এসেছে যে সস্তা চীনা ড্রোনও তারা ব্যবহার করে ক্ষেত্র চিহ্নিত করছে; ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রসদ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ সব মূল স্থলপথ এখন সরাসরি রুশ আর্টিলারির দৃষ্টিসীমায় রয়েছে।
ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ডিপস্টেট জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। শহরটি হারালে ওই অঞ্চলের ইউক্রেনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।













