জাপান বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি এক ধাক্কায় পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে — যা প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে দেশের প্রথম বড় বদল। নতুন হার আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
টোকিওর ঘোষণা অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমান ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে, আর একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ফি ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’’ তিনি বলছেন, এই পরিবর্তন শিগগির জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তাদের আশা।
পিষিয়ে বলা যায়, ২০২১ সাল থেকে ইয়েনের মান ক্রমাগত ব্যথিত; বর্তমানে ইয়েন এর পরিশোধ ক্ষমতা গত ৪০ বছরের নি¤œমাত্রায় নেমে এসেছে। করোনার পরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠার পর বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমে আসায় গত বছর জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক এসে ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড পর্যটক আগমনও ভিসা ফি বৃদ্ধির পেছনে পরোক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
একই সঙ্গে জাপানে বসবাসকারী বা বসবাস করতে চাওয়া বিদেশিদের উপর আরোপিত অন্যান্য প্রশাসনিক ফিও বড় মাত্রায় বাড়ানোর পথও তৈরি করা হয়েছে। গত মে মাসে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষে বিদেশি সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি বাড়ানোর একটি বিল পাস হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী স্থায়ী বসবাস (পারম্যানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সর্বোচ্চ নিয়মিত ফি বর্তমানে ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে — যা বর্তমানের প্রায় ৩০ গুণ। রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানে ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করা যেতে পারে।
জাপানের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো ভিসা ও আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলোকে গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি আনা। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী ভিসার আবেদন ফি সাধারণত ১৮৫ ডলার থেকে ৩১৫ ডলারের মধ্যে এবং যুক্তরাজ্যে সাধারণ স্বল্পমেয়াদি ভিসার (সর্বোচ্চ ছয় মাস) ফি প্রায় ১৩৫ পাউন্ড (সূত্র অনুসারে প্রায় ১৭০ ডলার)। এই তুলনায় জাপানের নতুন নির্ধারিত ফি উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হবে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আবেদনকারীদের জন্য নতুন হার সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা ও কার্যপ্রণালী প্রকাশ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভ্রমণ বা অভিবাসন পরিকল্পনা আছে এমনদের জন্য এই পরিবর্তন সময়মত খেয়াল রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম হবে।














