ঢাকা | সোমবার | ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ৬০ দিনের রোডম্যাপে সম্মত, চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্য

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সোমবার (২২ জুন) শেষ হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, আলোচনায় দুটি দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করার একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

আলোচনা শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত ছিল। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলে, অন্যদিকে মার্কিন পক্ষের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। তবুও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দুই দেশ লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতকরণ ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হলেও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো চলতি সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

এর আগে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি জেডি ভ্যান্স রোববার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন; সেই বৈঠক সোমবার ভোররাতে শেষ হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ইরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশের জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে।

আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধি টেবিল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তানি ও কাতারি কূটনীতির প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা গেছে। এক মার্কিন কূটনীতিক নিশ্চিত করেছেন, প্রতিনিধিরা গভীর রাত পর্যন্ত পরমাণু ইস্যু, লেবাননের পরিস্থিতি এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।

আলোচকদের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি—যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ—উন্মুক্ত রাখা এবং সব ধরনের শত্রুতা নিরসন করা। হোয়াইট হাউস থেকে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এই অগ্রগতিকে বিশ্ব শান্তির পথে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।