ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঝাড়খণ্ডে বজ্রপাতে দুই নারীসহ ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঝাড়খণ্ডে বর্ষার শুরুতেই গত ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতের রাক্ষসী আঘাতে অন্তত ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী এবং মাত্র দুই বছর বয়সী একজন শিশু রয়েছেন—রাজ্যের ছড়িয়ে থাকা ছয়টি জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশি তথ্যে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে হাজারিবাগ জেলায়, যেখানে তিন জন মারা গেছেন। পালামু, লোহরদাগা, রামগড়, পশ্চিম সিংভূম ও গোড্ডা জেলায় মিলিয়ে আরও পাঁচজন বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে ঘন মেঘ, দমকা হাওয়া ও 잦 বৃষ্টি-সহ বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নিহতই খোলা মাঠে কাজ করা বা বাড়ির বাইরে অবস্থানকালে বজ্রপাতের কবলে পড়েছেন। আবহাওয়ার হঠাৎ বদলে যাওয়ায় তারা সময় মতো নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেননি। বিশেষ করে দুই বছর বয়সী শিশুটির অকাল মৃতু্যতে এলাকায় গভীর শোক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি তৃণমূল পর্যায়ে বজ্রপাত সংক্রান্ত সতর্কতা আর দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া হত, অনেক জীবন রক্ষা করা যেত।

প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে ও ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন স্তরে প্রচার চলছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে; তাই বিশেষজ্ঞরা অনাবশ্যক বাইরে বেরোতে নরশনি এবং খোলা মাঠ, উঁচু গাছ বা জলাশয়ের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বর্ষার শুরুতেই এ ধরনের তীব্র বজ্রপাতের ঘটনা প্রশাসন ও স্থানীয়দের জন্য বড় সতর্কতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষতির আশংকা রয়েছে।