ঢাকা | বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

১৭তম লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে ঢাকার দুই ছবি ‘মাস্টার’ ও ‘রইদ’

ইউরোপের খ্যাতনামা আয়োজন লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ১৭তম এই আয়োজনে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের দুটি আলোচিত চলচ্চিত্র — রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’ এবং মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। আগামী ৯ জুলাই থেকে যুক্তরাজ্যে শুরু হতে যাওয়া উৎসবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ছবিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের এই দু’টি চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হবে।

ঐতিহ্যবাহী রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একযোগে অংশ নেওয়া ‘মাস্টার’ ও ‘রইদ’ ভ্রমণ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; বিশেষত ‘মাস্টার’ রটারড্যামে এক বিশেষ পুরস্কার জিতে নিয়েছিল।

এইবার উৎসব তিনটি ভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। লন্ডনে অনুষ্ঠান শুরু হবে ৯ জুলাই এবং চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত; বার্মিংহামে প্রদর্শনী চলবে ১০ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত; আর ম্যানচেস্টারে ছবিগুলো দেখানো হবে ৯ এবং ১০ জুলাই। উৎসবের নির্বাচিত তালিকায় বাংলাদেশের ছবিগুলো ছাড়াও রয়েছে ‘৫২ ব্লু’, ‘অল অ্যাবাউট ওয়েডিংস’, ‘আনমোল-লাভিংলি আওয়ারস’, ‘গিট ইট আ শট’, ‘ইন সার্চ অব দ্য স্কাই’, ‘মসকিউটো ইন দ্য ইয়ার’ ও ‘টু দেসি টু কয়্যার’ প্রভৃতি আন্তর্জাতিক কাম্য চলচ্চিত্র।

এই বছর উৎসবের বড় আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলিউড তারকা আমির খান। তার অভিনীত ও প্রযোজিত সিনেমা ‘লগান’-এর মুক্তির ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করা হবে, এবং আমির খান নিজে সেই অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়ে পরিচালনার পেছনের গল্প এবং ব্যক্তিগত অভিনয়জীবন সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র আলাপচারিতায় ঘর ভরার দর্শকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুটি ছবির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। নাসির উদ্দিন খান অভিনীত ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং সেখানে প্রতিটি প্রদর্শনী হাউসফুল হয়। অন্যদিকে, কোরবানির ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘রইদ’ অভ্যন্তরীণভাবে ভালো ব্যবসা করে চলেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এ মাসের শেষভাগে ‘রইদ’ মার্কিন যুক্তরাস্ট্র ও উত্তর আমেরিকার প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাবে — যেখানে প্রবাসী দর্শক বিশেষ মনযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উৎসবে অংশ নেয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর সিরিজে জায়গা পাওয়া এই দুই ছবিই প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশের সমকালীন সিনেমা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে পারছে। উৎসবের মাধ্যমেই দর্শকরা ঢাকার নতুন সিনেমাটিক ধারা ও স্থানীয় গল্পের বৈশ্বিক আবেদন আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।