ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। এসব দাবির মধ্যে বিশেষ করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘‘গোপন বৈঠক’’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এই অভিযোগকে বিজিবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আর বিভ্রান্তিকর বলেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্ট করেছে।

বিজিবি জানায়, ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে শুধু বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোট ৩১টি ও ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপিত হয়েছিল।

এই আলোচনার ফলাফল স্বরূপ গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রামাণিক দলিল হলো “জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (JRD)”, যা উভয় দেশের মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত। ১২ জুন ২০২৬-এ বিজিবি যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা উক্ত জেআরডিইয়ের ওপর ভিত্তি করেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাই জেআরডি ছাড়া অন্য কোনো অনুমানমূলক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যু উপস্থাপন করে। নীরিহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্তে মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার সংকল্প জেআরডিতে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে। এছাড়া পুশ-ইন, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ (আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে), মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম-সহ বাংলাদেশের সব উদ্বেগ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত ও নথিভুক্ত হয়েছে। জেআরডি পর্যালোচনায় স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে বিজিবির সব উদ্বেগ দৃঢ়তার সঙ্গে ও আপস ছাড়াই উপস্থাপিত হয়েছে।

যে অভিযোগগুলো ‘‘গোপন বৈঠক’’ নামে প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো কূটনৈতিক রীতিনীতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে বলে বিজিবি বলেছে। আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ পূর্বানুশাসিত ও প্রচলিত একটি প্রথা—এরকম সাক্ষাৎ ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনেও ঘটেছিল, যখন ডিরেক্টর জেনারেল (বিএসএফ) ঢাকায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন।此次 মহাপরিচালকের সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎও ভ্রমণে যাওয়ার আগে নির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল এবং সেখানে বিজিবি বাংলাদেশের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে উত্থাপন করেছে।

বিজিবি আরও বলেছে যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার রোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবিলায় বাহিনীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে জনমনে আস্থা ফিরে এসেছে। এই সময়ে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লঘু করে দেখানো বা ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে মনোবল ভঙ্গ করার প্রচেষ্টা খণ্ডিত করা প্রয়োজন।

বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলেছে যে সীমান্তভিত্তিক স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা যাচাই করা তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

শেষে বিজিবি জানায়, তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবে।