ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সূচক বেড়ালেও ডিএসইতে লেনদেন কমেছে

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকগুলো ওঠানামা করে উঠেছে, তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমেছে। বাজারে বিশেষ করে ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাওয়ায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার প্রবণতা বজায় ছিল। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সামগ্রিক চিত্র ইতিবাচক ছিল এবং সেখানে লেনদেনও বাড়েছে।

ডিএসইতে দিনের শেষে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৬৫টির দাম কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় ব্যাংক খাতে ১৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম কমেছে। বিমা খাতে ৩৫টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ২২টির দর নামেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট উর্ধ্বগতি দিয়ে ৫ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। বাছাইভিত্তিক ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়েছে।

লেনদেনের পরিমাণের দিকে নজর গেলে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন মোট ১ হাজার ৪১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কম। লেনদেনে শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং—এর ৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যার শেয়ারের লেনদেন মূল্য ছিল ৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে আছে ইস্টার্ন হাউজিং, যার শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। টপ টেন তালিকায় আরও ছিল লাভেলো আইসক্রিম, সার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং এবং লাফার্জহোলসিম সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ সক্ষমতা বিবেচনায় বিভিন্ন গ্রুপে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের মধ্যে ৬৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৩৩টির দাম কমেছে। অপরদিকে ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়া ‘ভালো মানের’ ৮৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, যদিও ১০১টির দাম নামেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক কাসপিআই (CASPI) ১১৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২২টির দাম বেড়েছে এবং ৯১টির দাম কমেছে। সিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১০ কোটি ১১ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সারসংক্ষেপে, বাজারে সূচকগত শক্তির ছোঁয়া থাকলেও ডিএসইতে মোট লেনদেন কমে যাওয়ায় সরাসরি ক্রয়-বিক্রয়ের গতি পুরোপুরি ফিরে আসেনি; বিশেষ করে ব্যাংক ও বিমা খাতের লেনদেনই এই উত্থানকে চালিত করেছে।