ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ১,৫০০ মরদেহ উদ্ধার

ভেনিজুয়েলার বিরাট ক্ষয়ক্ষতির জোড়া ভূমিকম্পের পর চার দিনের মধ্যে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরা ও অন্যান্য শহরের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ।

দেলসি বলেন, ধ্বংসস্তূপে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গত রোববার ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে; একই সঙ্গে জীবিতদেরও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না এবং প্রত্যেকটি ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনরা বেঁচে থাকতে পারেন—এই আশায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তিনি যোগ করেছেন।

সংযুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে দেশটিকে আঘাত করে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প—ম্যাগনিচিউড ৭.২ এবং ৭.৫—যার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। এই ভূমিকম্পগুলোকে ভেনিজুয়েলার ইতিহাসের এক অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জোড়া আঘাতে অজস্র ভবন ও বাসাবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার জর্জ রদ্রিগুয়েজ জানিয়েছেন, বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে এখন পর্যন্ত ১,৪৫০টি মরদেহ ও আহত অবস্থায় ৩,১৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে; তিনি জানিয়েছেন যে ৭৭৪টি ভবন ধসে পড়েছে।

পুনরুদ্ধার ও মৃত্যুর সংখ্যার অনুধাবন এখনও স্পষ্ট নয়—ইউএসজিএস জানিয়েছে হতাহতের সংখ্যা হাজারের ওপর থেকে লক্ষের কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পারে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। ভেনিজুয়েলার সরকার এখনও নিখোঁজদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি; বিরোধী পক্ষ দাবি করেছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারে।

ভূমিকম্পের পর বহু অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেলসি জানিয়েছেন যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং আসন্ন এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ তল্লাশি, আহতদের চিকিৎসা ও জীবিতদের উদ্ধার কাজে তৎপর রয়েছেন। হাজার হাজার পরিবার এখনও তাদের স্বজনের খোঁজে দিশাহারা—প্রতিটি মুহূর্তে জীবন উদ্ধার ও শোক সামলানো একই সঙ্গে চলছে।