হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার গত শনিবার (২৭ জুন) আবার হামলার শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজটিতে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু (প্রজেক্টাইল)’ আঘাত করেছে এবং ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউকেএমটিওর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ক্রু সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন এবং আপাতত কোনো পরিবেশগত দূষণের খবর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
এই হামলা এমন সময়ে ঘটেছে যখন চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে সর্বশেষ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার স্রোত বেড়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) একটি মালবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার (২৬ জুন) ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার কথা ঘোষণা করে এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলাকে ‘শক্তিশালী জবাব’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
জবাবি হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান শনিবার মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে হামলা চালায়। একই দিনে বাহরাইনে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতর রয়েছে, একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া যায়।
অপরদিকে ইরান প্রণালীটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে রিপোর্ট আছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অননুমোদিত জাহাজকে লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছোড়ার তথ্য রয়েছে, ফলে অনেক জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার আগে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বাধ্য হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবারের ড্রোন হামলার পর এবং শনিবার ট্যাংকারে আঘাতের পর জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার নৌচলাচলের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার দিকগুলো তদন্ত করছে এবং প্রণালীতে চলাচলরত জাহাজগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করেছে। বর্তমানে ব্রিজের ক্ষতি ও সংঘটিত হামলার তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় অভিযোজিত সবাই।














