ঢাকা | রবিবার | ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদী সুকুক—মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিনিয়োগের সুযোগ

সরকার দেশের ইসলামি শরীয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি সুকুক বাজারে আনছে। ২৭৩ দিন মেয়াদী এই ‘স্বল্পমেয়াদি বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (বিজিআইএস)’ ইস্যুর মাধ্যমে সাধারণ জনতা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শরীয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ১০ হাজার টাকা থেকেই বিনিয়োগ শুরু করতে পারবে।

এতদিন পর্যন্ত সরকারি সুকুকগুলো সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ছিল। এবার নিলামটি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলবে। সরকারের লক্ষ্য বাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা। বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষণা করা বার্ষিক রিটার্ন ৯.৩৬ শতাংশ; এই মুনাফা মেয়াদ শেষ হলে এককালীনভাবে প্রদান করা হবে (মেয়াদ অনুযায়ী হিসাব করা হবে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে এটি মূলত ‘ইজারা সুকুক’ পদ্ধতিতে ইস্যু করা হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা তাদের মূল ধন ও তার ওপর অর্জিত মুনাফা একসঙ্গে পাবেন। ব্যক্তি পর্যায়ে থেকে শুরু করে প্রবাসী ও বিভিন্ন শরীয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান—সবার জন্যই এই সংগ্রহ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

আবেদনের নিয়ম সহজ রাখা হয়েছে। আগ্রহীরা তাদের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিলামে অংশ নিতে পারবেন। পুরো বরাদ্দ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডিউল’ (এসএসএম) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। যারা এই খাতে নতুন—তাদেরকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে একটি ‘সুকুক ইনভেস্টর’ (এসআই) আইডি খুলে নিতে হবে; আগে থেকেই নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আইডি তৈরির প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ শরীয়াহভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ সরকারি বিনিয়োগ গন্তব্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারের স্বল্পমেয়াদি তহবিল প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবে। এছাড়া এই সুকুকও অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজের মতোই রেপো সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

সুকুক হচ্ছে এমন একটি শেয়ারের মত দলিল যা নির্দিষ্ট কোনো সম্পদের ওপর মালিকানার অংশ বা তদ্ভিত্তিক আয়ের অংশ প্রতিফলিত করে—সুদভিত্তিক বন্ডের বদলে সুকুকধারীরা নির্দিষ্ট সম্পদের আয়ের মধ্যেই মুনাফা পান। বাংলাদেশে সুকুকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন মেয়াদের সুকুকের মাধ্যমে মোট ৪২,৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, যার প্রায় ৩২,৪০০ কোটি টকা এসেছে সরকারি নিলামের মাধ্যমে।

বিশ্ববাজারে সুকুক এখন একটি স্বীকৃত ও শক্তিশালী অর্থায়ন পদ্ধতি। মালয়েশিয়া এই বাজারে শীর্ষে থাকলেও ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কাতার ও এমনকি সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রেও সুকুক জনপ্রিয়। বর্তমানে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় সুকুক বাজারের মোট মূলধন এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিনিয়োগে আগ্রহীরা তাদের ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জানবেন।