ঢাকা | শনিবার | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রথমবার: মাত্র ১০ হাজার টাকায় স্বল্পমেয়াদি সরকারি সুকুক—নিলাম রবিবার

সরকার দেশের শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পরিধি বাড়াতে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি সুকুক বাজারে আনছে। ২৭৩ দিন মেয়াদের এই ‘স্বল্পমেয়াদি বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (বিজিআইএস)’ ইস্যুর মাধ্যমে সাধারণ প্রবাসী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মাত্র ১০,০০০ টাকা থেকে অংশ নিতে পারবেন।

নিলাম কীভাবে ও কবে হবে

আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই নিলাম চলবে। আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে পরিচালিত হবে; অংশগ্রহণকারীরা তাদের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকেই সহজে আবেদন করতে পারবেন। সরকার এই ইস্যু থেকে বাজার থেকে ৫,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রদেয় মুনাফা বার্ষিক ৯.৩৬ শতাংশের হারে এককালীনভাবে দেওয়া হবে।

পদ্ধতি ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এটি একটি ‘ইজারা সুকুক’ পদ্ধতিতে ইস্যু করা হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হলে বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন সহ অর্জিত মুনাফা একসাথে গ্রহণ করবেন। ব্যক্তিবর্গ, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান—সবার জন্যই এই বিনিয়োগ খোলা রাখা হয়েছে।

আবেদনের টেকনিক্যাল দিক

পুরো বরাদ্দ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডিউল’ (এসএসএম) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রথমবার এই খাতে বিনিয়োগ করতে গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে একটি ‘সুকুক ইনভেস্টর’ (এসআই) আইডি খুলতে হবে; আগে থেকে সুকুক বিনিয়োগকারী হিসেবে নিবন্ধিতরা নতুন আইডির প্রয়োজন হবে না।

উপকারিতা ও বাজার সুবিধা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সরকারি, নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারের স্বল্পমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের দরকার মেটাবে। এই সুকুকও অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজের মতোই ‘রেপো’ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

সুকুক কী এবং বিস্তৃত背景

সুকুক হলো এমন একটি আর্থিক দলিল যা নির্দিষ্ট সম্পত্তি বা প্রকল্পের ওপর মালিকানার প্রমাণ দেয়; এটি সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেখানে বন্ডে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট হার অনুসারে সুদে অংশ নেন, সুকুকধারীরা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির আয় থেকে মুনাফা পান। ‘সুকুক’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ হচ্ছে কোনো সম্পত্তির ওপর মালিকানার দলিল।

বাংলাদেশে সুকুকের পথচলা

দেশে প্রথম সুকুক ইস্যু ২০২০ সালে ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের জন্য করা হয়েছিল এবং এটি ছিল ৮,০০০ কোটি টাকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সুকুকের মাধ্যমে সরকার মোট ৪২,৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে; এর মধ্যে প্রায় ৩২,৪০০ কোটি টাকাই সরকারি নিলামের মাধ্যমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বব্যাপী সুকুক এখন একটি মান্য এবং শক্তিশালী অর্থায়ন উপায়। মালয়েশিয়া সুকুক বাজারে শীর্ষে থাকলেও ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কাতার ও এমনকি অমুসলিম দেশগুলো—যেমন সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রেও—সুকুক জনপ্রিয়। বর্তমান সক্রিয় সুকুক বাজারের মোট মূলধন এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

সামগ্রিকভাবে, স্বল্পমেয়াদি এই সুকুক সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য একটি সরকারি অপশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যারা অংশ নিতে চান, তারা তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।