পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। দলের বিদ্রোহী শিবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর থেকে ‘অব্যাহতি’ ঘোষণা করার পর মমতা কড়া পাল্টা দেন—নিজের অনুগত নেতাদের নিয়ে নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা করে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ স্পষ্ট সংকেত দিল যে দলের নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজের হাতে রাখতে চান এবং নিজেকে তৃণমূলের প্রধান শক্তি ও সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার দিল্লির নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত নেতৃত্ব একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা জমা দেয়। সোমবারের তারিখ দেখিয়ে এই তালিকায় মমতাকে পুনরায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন (সভানেত্রী) হিসেবে নাম উল্লেখ আছে। কলকাতার কালীঘাটভিত্তিক সূত্র বলছে, দলের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখতে এটাই মমতার জরুরি কৌশল।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক বড় অংশ রাজধানী নয়–টাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে সমান্তরাল বৈঠক ডেকেছিল। সেখানে বিদ্রোহীরা মমতাকে দলের সভাপতির পদ থেকে ‘অব্যাহতি’ ঘোষণা করে এবং ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে—এটিকেই তারা ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবি করে। নবগঠিত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া হয়েছে জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক দায়িত্ব।
ঋতব্রত সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত ভোটে এই কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তারা চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একসময় দলের নেতৃত্বে থাকা নেতারা মেন্টর হিসেবে দলের সঙ্গে থাকুন। তবুও বিদ্রোহী শিবিরের এই উদ্যোগ মমতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অনেক প্রবীণ ও বিশ্বস্ত নেতা এই বিদ্রোহে যোগ দিয়েছেন—তাদের মধ্যে সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের নাম উল্লেখযোগ্য। ফিরহাদ হাকিম গত কয়েক সপ্তাহে মেয়রপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে আগে সংবাদ ছিল।
প্রকাশ্য বিদ্রোহের পর মূল তৃণমূল কড়া অবস্থানে আসে। দলের নিয়মভঙ্গ ও বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও সাবিনা ইয়াসমিনসহ অনেকে ‘কারণ দর্শানোর’ নোটিশ পেয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্ষমতার ভূয়সী ভাগ ভালোভাবে চলতে না দিলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে—এভাবেই দলীয় নেতৃত্বের বার্তা বোঝা যাচ্ছে।
এখনই বড় প্রশ্ন হল—নির্বাচন কমিশন টেবিলে কোন কমিটিকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এই বিষয়ে রাজনৈতিক এবং আইনি লড়াই কীভাবে সাজবে, তা আগামী দিনে রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। তৃণমূলের আরও অভ্যন্তরীণ ধাক্কা, নেতাদের অবস্থান ও ভোটের আগে দলকে একত্র রাখার চেষ্টা—এসবই এখন নজর কাড়ছে।













