ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডিপফেক ঠেকাতে গুগল-মেটা-সহ টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে প্রীতি জিনতার আইনি লড়াই

জেনারেটিভ এআই-এর অপব্যবহার রোধ এবং নিজের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ রক্ষার লক্ষ্যে বলিউড অভিনেত্রী ও আইপিএল দল পাঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিনতা একটি ব্যাপক আইনি লড়াই শুরু করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে তাঁর নাম, কণ্ঠস্বর ও অবয়ব ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি ও নকল চ্যাটবট তৈরি করা হচ্ছে এবং এইসবের বিরুদ্ধে গুগল, মেটা, এক্স, জিফি ও গোড্যাডিসহ ডজনখানেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি মুম্বাই হাইকোর্ট থেকে পেয়েছেন।

বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করার পর আদালত তাঁর সমর্থনে রায় দেন, ফলে টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। অভিনেত্রীর পক্ষে আদালতে তর্ক করেন আইনজীবী রোহন কদম; তিনি বলেন, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই ব্যবহার করে কার্যত প্রীতির পরিচয় চুরি করা হচ্ছে। প্রীতি আর্জি দিয়েছেন যে ১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইন ও ব্যক্তিত্বের অধিকার সংরক্ষণকারী নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যাক্তির অনুমতি না নিয়েই তাঁর নাম, কণ্ঠস্বর বা অবয়ব ব্যবহার করা দণ্ডনীয়।

প্রীতি জিনতার অভিযোগ, তাঁর অজান্তে অনলাইনেই তাঁর ডিজিটাল ইমেজকে অশ্লীলভাবে ও ভাঙচুর করে প্রকাশ করা হচ্ছে। কিছু চ্যাটবট পণ্যের নাম ও আচার-আচরণে হুবহু প্রীতিকে নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিথ্যে কথোপকথন করছে, পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ ডিপফেক ভিডিও ও বিকৃত মিম ছড়িয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুনামের ওপর প্রভাব পড়ছে।

অভিযোগের লক্ষ্যবিন্দুতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকের সদর দপ্তর বিদেশে থাকলেও প্রীতি আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ও এখানেই কর্মপরিচালনা করেন; তাই মামলাটি মুম্বাই হাইকোর্টের এখতিয়ারে আনা হয়েছে। মামলাটির মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির এই দ্রুতপ্রসারিত যুগে নাগরিকদের ডিজিটাল পরিচয় কীভাবে সুরক্ষিত করা যাবে, সে সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিকনির্দেশনার আশা করা হচ্ছে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা ভারতের জন্য একটি নতুন নজির গড়ে দিতে পারে। এর আগেও কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি এবং অরিজিত সিংয়ের মতো সেলিব্রিটিরা ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ রক্ষার জন্য আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে তারকাদের ইমেজ ও মর্যাদা রক্ষায় এই রকম আইনি উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব অনেকজনেই নিচ্ছেন।

প্রযুক্তি সংস্থাগুলো কতটা দায়বদ্ধ এবং এআই-চালিত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কোন নীতিগত পরিবর্তন করা হবে—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরও এই মামলায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। প্রসঙ্গত, এ ধরণের মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।