ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপান: ৩১ বছরে সর্বোচ্চ সুদ বাড়ানোর পথে

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চাপ সামলাতে জাপান নীতিগত বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে, বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা অনুযায়ী জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১.০ শতাংশ পর্যন্ত তুলে আনতে পারে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ১৯৯৫ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার এত উচ্চ স্তরে পৌঁছাবে। গত ডিসেম্বরের পর এটিই ব্যাংকের প্রথম বড় ধরনের হার বৃদ্ধি হতে পারে এবং স্থানীয় সময়দুপুরে এ সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা जतানো হচ্ছে।

এই নীতিগত কড়াকড়ির পেছনে মূল কারণ হলো জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে তীব্রতর হওয়া মূল্যস্ফীতি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ওঠানামা ঘিরে আর্থিক অস্থিরতা বাড়ার কারণে জাপান দ্রুত রক্ষণশীল মুদ্রানীতি নেওয়ার পথে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শও কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও তার প্রথম বৈঠকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা অনিশ্চিত। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আপাতত হার স্থির রাখার পথে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নও আছে। বার্তা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরে হরমুজ সীমান্তের মাধ্যমে জ্বালানি পথ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হবে—এ সংবাদ বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। ঐ শান্তি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মূলত মনে করছেন, যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট থেকে উদ্ভূত মূল্যবৃদ্ধি প্রশমিত করতে জাপানকে দ্রুত ও নির্ধারক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সুদের হার বাড়ানো হলে তা লoan ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের অগ্রাধিকার—এমনই ধারা চলছে।