তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, তখন সেটি বিকৃতকারীদের জন্য টিকতে দেয় না এবং তারা হেলিকপ্টারে করে পালাতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ নির্ধারিত হয় দেশের মানুষের বয়ান থেকে — কোনো পরগাছা, ধার করা বা কৃত্রিম বয়ান থেকে না।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘‘আমরা বাংলাদেশি’’ আয়োজিত ‘‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনে দেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে বিভক্ত ও মেরুকরণ করার চেষ্টা করেছে। তবে জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ইতিহাসের সঠিক প্রবাহ সেই কৃত্রিম বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি যোগ করেন, ‘‘ইতিহাস যেখানে স্পষ্টভাবে কথা বলবে, সেখানে বিকৃতকারীরা টিকে থাকতে পারবে না।’’
স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এই পরিচয়ের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কারও কাছ থেকে সনদ নিতে হবে না। বাংলাদেশের স্বকীয়তা ও জাতীয়তাবাদ দেশের বাস্তবতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার একটি মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ককে কার্যকর করতে হবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে জাতিসংঘসহ কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ২২০ কোটিরও বেশি মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সার্ককে কার্যকর করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিক থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতির যুগোপযোগী করণে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।














