বক্স অফিসে সফল হওয়ার পরও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পাকিস্তানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তীব্র রেজাল্ট দেখাচ্ছে রণবীর সিং অভিনীত স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। গত ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ছবিটি দর্শকদের মাঝে দ্রুত আলোকপাত করেছিল; এখন অনলাইন স্ট্রিমিং-এও এটি শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে—বিশেষত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে।
স্থানীয় সংবাদ ও ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তি পাকিস্তানে নেটফ্লিক্সে ১৪ মে মুক্তি পেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মটিতে ভারী ট্রাফিক পড়ে এবং সার্ভারে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা ‘ক্রাশ’ হওয়ার দাবি করা হয়। মধ্যরাতে একসঙ্গে হাজার হাজার দর্শক প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটরও ছবিটিকে ঘিরে পাকিস্তানি দর্শকদের প্রবল আগ্রহকে সময়ের বড় চমক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। পরিচালক আদিত্য ধরের ছবিটির প্রথম কিস্তি গত বছরের শেষের দিকে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে প্রদর্শনে নিষিদ্ধ হয়েছিল। পাকিস্তান সম্পর্কে ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’ হিসেবে চিত্রায়ন এবং ভারত-বিরোধী প্রেক্ষাপট প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়। তাই সরকারি বা চার্চিত প্রদর্শন বন্ধ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে সিনেমাটির জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমেনি।
ফিল্মটির কাহিনী মূলত করাচির লিয়ারি অঞ্চলের একটি কল্পিত বা বাস্তব অনুপ্রেরণার ওপর নির্মিত বিশেষ অপারেশনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়বস্তুকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সাধারণ দর্শকরা এতে নির্মাণমান, অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও রণবীর সিংয়ের অভিনয়কে বেশি প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, ঐতিহাসিক সত্য-মিথ্যা যাচাই করার বদলে একটি বলিষ্ঠ স্পাই থ্রিলার হিসেবে ছবিটি দেখাই যুক্তিযুক্ত।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ‘ধুরন্ধর’ যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকরা খুঁজে পেতে চেয়েছে—এটি শিল্পকে ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সীমারেখা কতখানি দুর করার ক্ষমতা রাখে, তা আবারও তুলে ধরল। পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের শীর্ষস্থান দখল করে চলচ্চিত্রটি যে কিফায়তিতে জয়যাত্রা চালাচ্ছে, তা থেকেই রণবীর সিংয়ের আন্তর্জাতিক আকর্ষণের কথা পরিষ্কার হওয়া যায়।
ফিল্ম সংশ্লিষ্টরা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত কাজের ডিজিটাল ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ ও দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন ধরনের প্রশ্ন উঠবে—তবে এখন পর্যন্ত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ তার দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এবং আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।














