গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে ঝিনাইদহে সম্প্রতি একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা এই সভার উদ্যোগ নিয়েছে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশ, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার রহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমন্বয়কারী এবং প্রোগ্রাম ও ফিন্যান্স সংক্রান্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঝিনাইদহ জেলার ৬৭টি ইউনিয়নকে কভার করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। রিপোর্টে প্রতিটি ইউনিয়নের মামলা গ্রহণের রেট, সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির হার এবং কার্যক্রম চালুকোয় ক্ষেত্রেগুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়, যা ভিত্তি করে গভীর আলোচনা চলে।
অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও সেবামুখী করতে আউটরিচ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের রুটিন আউটরিচের সঙ্গে গ্রাম আদালত সম্পর্কিত প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার আলোকে স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, যুব ও নারী সংগঠন, তথ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মিল রেখে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মনিটরিং ও জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালানো হবে। পাশাপাশি অগ্রগতি মূল্যায়ন ও দরকারি সমন্বয় নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা সভা করা হবে।
উপসংহারে, এই সমন্বয় সভার মাধ্যামে ঝিনাইদহে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও জনগণের নাগালে নিয়ে আসা এবং দ্রুত ও উন্নত বিচারসেবা নিশ্চিত করার দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।














