ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের সব নির্ধারিত ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে—ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংশয়কে গৃহীত আয়োজক ও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভেন্যু বদল সম্ভব হয়নি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের কল্যাণের কথা বলিয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার আবেদন করেছিল। তারা বলেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা খেলোয়াড়দের জন্য স্পষ্ট ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ফিফা জানিয়েছে যে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে লজিস্টিক, সূচি ও আয়োজক-দেশের সমন্বয়ের কারণে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি ও স্টেডিয়ামই মানতে হবে।
এই সিদ্ধান্তে ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্ককে একটি তীব্র সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেছেন যে, নিরাপত্তার কারণে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে অংশ নিতে এড়িয়ে চলা উচিত—যা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ও জানিয়েছেন যে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে রাজি নয়। এমনকি ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীও দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। এই সব বয়কট-ধাঁচার হুমকির পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সরাসরি বিষয়টি সামাল দিতে তুরস্কে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৩১ মার্চ বৈঠক করেন। তিনি বৈঠকে ফুটবলকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে আয়োজক এবং ফিফা খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ।
ফিফার অনমনীয় অবস্থানের পর ইরানের হাতে ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো কার্যকর বিকল্প রইল না। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে—তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী ইরানের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় স্টেডিয়ামগুলোতে আয়োজন করা হবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিফার এই কঠোর সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা দেখা গেলেও মাঠের পরিবেশে এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে এর প্রভাব কীভাবে পড়বে, তা অনিশ্চিত। আপাতত ইরানের জন্য বাস্তব বিকল্প কম; ফেডারেশনকে যদি শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার লিখিত নিশ্চয়তা না দেওয়া হয় তবে তাদেরকে নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলতে হবে—অথবা বিশ্বকাপ থেকে সরে এসে এক আন্তরিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবিষ্যতে ক্রীড়া ও কূটনীতি কীভাবে সমাধান হবে, সেটা সময়ের বিষয়।














