দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের উত্তাপে রাজধানী আগুনে, আর তাতেই ভারতের পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ পাঞ্জাবের শত শত কৃষকও আবার রাস্তায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া কৃষকদের বিশাল শোভাযাত্রা শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
পুলিশ সিমেন্টের ব্লক, লোহার কাঁটা এবং উঁচু ব্যারিকেড দিয়ে প্রধান সড়কে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশটি দ্রুত ২০২৪ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে—এমনই ব্যাখ্যা এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসেছে। রাজধানীতে ঢুকতে না পারায় শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান নেন কৃষকরা এবং সেখানে অবস্থান করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বলেন, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আটকাল হয়েছে এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় সরকারের প্রতি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কৃষক নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেছেন, হরিয়ানা পুলিশ নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঞ্জাব সীমান্তের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তুলেছে, অথচ পাঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে নীরবে বসে আছে। একই সময়ে কিছু হরিয়ানার কৃষক—বিশেষ করে আম্বালা ও কুরুক্ষেত্র থেকে আসা—তারা দিল্লির পথে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র তল্পূর্ণ ব্যানারের তলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একত্রিত হয়ে এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েত ডেকে দিয়েছে। কিষাণ মজদুর মোর্চা, বিকেইউ একতা সংঘর্ষসহ বিভিন্ন সংগঠন পাঞ্জাবের নানা প্রান্ত থেকে রওনা হলেও শম্ভুতে ব্যাপক বাধার মুখে পড়েন।
আন্দোলনের মূল কারণ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি। কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, এই চুক্তির প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের শরতের মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, চুক্তি কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প ও ডিজিটাল বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো খুলে দিলে আমতারকা subsidized পণ্য ভারতের বাজারে ঢুকে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা ও পোল্ট্রি ইত্যাদি পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর দাবি করেছিল—এই অভিজ্ঞতাই তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলো সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট আলোচনা-পদ্ধতিরও নিন্দা করেছে এবং দাবি করেছে, প্রস্তাবিত চুক্তির সমস্ত নথি ও আলোচনা দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। তারা বলেন, ভারতের প্রায় ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) গ্রামীণ পরিবারের জীবন-জীবিকা দুগ্ধ খাতসহ কৃষিনির্ভর; যদি সেখানে বিদেশি আধিপত্য তৈরি হয়, তাহলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি সংবেদনশীল রূপে প্রভাবিত হবে।
তারা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আল্টিমেটামও দিয়েছে—কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে না। একই সময়ে দিল্লি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পুলিশের উপস্থিতি এবং সীমান্তে স্থাবর ব্যারিকেড অব্যাহত আছে, আর কৃষক নেতারা তাদের আন্দোলন ও দাবিপ্রকাশ অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।













