ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনতে সরকার জাতিসংঘের সমর্থিত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বা নিরাপদ সড়ক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, যখন তিনি স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করছিলেন।

মন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালে নির্ধারিত বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামোতে সংস্কার আনা হচ্ছে। এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তি ভিত্তিক যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কর্মসূচি, এবং মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে।

আইনি সংস্কারের সময়সীমা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ও আন্তর্জাতিক সেরা চর্চা অনুস্যারে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে গ্রহণ করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নিতে হবে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব ও সকলের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য।

মন্ত্রী সভায় জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়তে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

বিশ্ববাজারে এই অঙ্গীকারটি দুর্ঘটনা নিরসনে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়কযাতায়াতে গঠনগত পরিবর্তন আসবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।