ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইউরোজোনে ঋণকড়াকড়ি, প্রবৃদ্ধি অনিশ্চিত

ইউরোপে বেড়ে ওঠা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোজোনের ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার শর্ত আগের চেয়ে কঠোর করেছে। এটি ইসিবির ত্রৈমাসিক ব্যাংক ঋণ জরিপে মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে এবং ব্যাংকরা মনে করছে এই কড়াকড়ি আগামী প্রান্তিকেও অব্যাহত থাকতে পারে।

জরিপে দেখা যায়, ব্যবসায়িক ঋণের চাহিদি কিছু বাড়লেও ব্যাংকগুলো অতীতে যেভাবে ঋণ সম্মতি দিত, এখন তা যথেষ্ট কমে এসেছে — অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্প এবং জ্বালানি-নির্ভর উৎপাদন খাতে ঋণের মানদণ্ড সবচেয়ে বেশি কড়া করা হয়েছে, ফলে এই সেক্টরগুলোতে তৈরি ও বিনিয়োগে বাঁধা দেখা দিচ্ছে।

ইসিবি বলেছে, ‘‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে আসায় ঋণকড়াকড়ি বেড়েছে।’’ ব্যাংকগুলো বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নের ওপর নিবিড় নজর রাখছে।

জরিপটি ২১টি দেশের ১৫৯টি বড় ব্যাংকের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং ইসিবি জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ঋণের সব ক্ষেত্রেই শর্ত আরও কঠোর হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দুর্বল থাকায় ইসিবি সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে, তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশে পৌঁছায়— যা ইসিবির ২ শতাংশ লক্ষ্যকে অনেক ওপরে— ফলে বাজার বিশ্লেষকরা সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জরিপে আরও লক্ষ্য করা গেছে যে গৃহঋণের চাহিদা দ্বিতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ব্যাংকগুলো আশা করছে এটি আগামিতেও কমতেই থাকবে। বাড়ি-বাজার ও গৃহঋণ সংকোচন সাধারণ ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইসিবির জরিপ বলছে যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ ব্যাংকিং খাতকে আরও সংযত করেছে, যার ফল স্বরূপ ব্যবসা ও বিনিয়োগের খরচ বাড়তে পারে এবং ইউরোজোন অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।