ঢাকা | বুধবার | ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন ও রাজস্বে নতুন মাইলফলক

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখা গেছে। বিদায়ী এই অর্থবছরে বন্দরের মাধ্যমে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য চলাচল করেছে এবং এই পণ্যের সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকার ওপরে দাঁড়িয়েছে। শুল্কায়ন ও পণ্য পরিবহনের ফলে জাতীয় কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলো সরকারের দিকে থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। পূর্ববর্তী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে; গত অর্থবছরে এই আদায় ছিল প্রায় ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। বিদায়ী বছরে বন্দরের মাধ্যমে প্রায় ৪৯ লাখ টন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে; তবে শুল্কায়িত মূল্যের বৃদ্ধির হার এক শতাংশের কাচে বেশি হয়নি। তদুপরি, কিছু রপ্তানী পণ্যের ওপর সরাসরি শুল্ক ধার্য না হওয়ায় রপ্তানির পরিমাণ ও রাজস্বের সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে সরাসরি প্রকাশ পায় না, তবু সামগ্রিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়ও গত এক বছরে 눈ে পড়ার মতো বাড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যেখানে বন্দরের আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, সেখানে বিদায়ী অর্থবছরে তা প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় উঠেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহনের বৃদ্ধি, পাশাপাশি ট্যারিফ সমন্বয় এবং কার্যকর পরিচালনার কারণে বন্দরের পরিচালন রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি আয় ছাড়াও বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশে ব্যাপক বেসরকারি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব বেসরকারি লেনদেনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের বাইরে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রতিবছর বন্দরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

মোট Milestone হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫–২৬ অর্থবছরটি পেরিয়ে এসেছে শক্তিশালী রফতানি–আমদানি ও রাজস্ব ফলাফল নিয়ে, যা আগামী বছরগুলিতে বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে দেশের বাণিজ্য পরিবহন ও রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জাগাচ্ছে।