ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত অগ্রগতি

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নানা পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়োজিত থাকায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের গতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইনটিতে মোট ২০টি দেশের ৭০ জন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সংযুক্ত ছিলেন। বিডা জানিয়েছে, তাদের বিনিয়োগ রূপান্তরের হার প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় সন্তোষজনক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক কনসেপ্ট নোটে এই সাফল্যের তথ্য জানানো হয়।

বিডার বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিনিয়োগের মূল উৎস হিসেবে তুরস্ক, চীন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে আছে। বিশেষ করে হংকংভিত্তিক হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে এই বিনিয়োগ ১৫০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব থাকলেও বিডা, বেজা ও বেপজার সমন্বিত প্রচেষ্টায় তা দ্বিগুণ হয়ে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। হান্ডার প্রকল্পের আওতায় মিরসরাইয়ে একটি পোশাক কারখানা ও কেরানীগঞ্জে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে, যা প্রাক্কলিতভাবে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

টেক্সটাইল খাতে আরও একটি বড় বিনিয়োগ এসেছে চীনের শানডং হেনগলি টেক্সটাইলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লিড বাংলাদেশ টেক্সটাইল টেকনোলজি থেকে। তারা নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদন সম্প্রসারণ করবে। রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতে চায়না লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামে ৩২ মিলিয়ন ডলারের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে; এ প্রতিষ্ঠানে পিভিসি পাইপ, সোলার প্যানেল ও স্যানিটারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে।

রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে মেগারিচ নামের প্রতিষ্ঠান ১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এয়ারলাইন অ্যামেনিটি কিট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য লাইফস্টাইল পণ্য সরবরাহ করবে। সে সঙ্গে সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের খবরও রয়েছে—শ্রীলঙ্কার সফটলজিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি স্থানীয় বিমা প্রতিষ্ঠানের ৬০ শতাংশ অংশীদারিত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই বিনিয়োগ ডিজিটাল বিমা সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমকে বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার খুচরা প্রতিষ্ঠান এমআর ডিআইওয়াই ইতোমধ্যে দেশে ১৭টির বেশি মেগাস্টোর পরিচালনা করছে, যা স্থানীয় খুচরা খাতকে মজবুত করছে। বিডা জানায়, গত এক বছরে দেড় বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইনের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছানো একটি ইতিবাচক অগ্রগতি; আগামী এক বছরে আরও দেড় বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন যোগ করার লক্ষ্যে সংস্থাটি দেশ ও খাতভিত্তিক বিশেষ দল গঠন করে কাজ করছে।

বিডার উদ্যোগগুলো যদি অব্যাহত থাকে এবং সরকারি সার্ভিস উন্নয়ন, অবকাঠামো সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা কায়েম রাখে, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে দেশে পরিস্থিতি অনুকূল থাকবে—জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।