গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র হলে মাঠের ভেতরেই মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে ছিল কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচের ফল ঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলের সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে — তিন ম্যাচে তিন ড্র করে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে ছোট্ট কেপ ভার্দের ফুটবলাররা কোনো ভয়ে থাকছে না; উল্টো বিশাল রোমাঞ্চ নিয়ে তারা ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে মেতে উঠেছে।
গ্রুপ নির্ধারণের সময় স্পেন ও উরুগুয়েকেই নিঃসন্দেহে নকআউট ফেভারিট হিসেবে দেখা হয়েছিল, কেউ কেবল সৌদি আরবকেই সম্ভবত এলাকায় দেখেছিলেন — কেপ ভার্দের নাম সেসব গাণিতিক হিসাবেই ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে তারা ম্যাচে-ম্যাচে সবাইকে চমক দিয়েছে। শুরুতে শক্তিশালী স্পেনকে ০-০ তে আটকে রাখা, দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ ড্র করে আত্মবিশ্বাস জাগানো এবং সর্বশেষ সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউটে টিকিট কাটা — সব মিলিয়ে এ আফ্রিকান দেশের ফুটবলাররা ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের দক্ষতা দেখিয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের এই সাফল্য রূপকথা মনে হয়। দেশটির জনসংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ ৯৩ হাজার এবং তাদের জাতীয় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ১৫ হাজার — তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও নকআউট পর্বে পৌঁছানোর দিক থেকে কেপ ভার্দ এখন ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ। এর আগেও অভিষেকে গ্রুপ পাস করা দেখিয়েছে ঘানা ও ইউক্রেন (২০০৬), এবার তালিকায় নাম যুক্ত করল কেপ ভার্দ।
দলের নেপথ্যের সবচেয়ে বড় নায়কের নাম ভজিনিয়া — অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে তিনটি পরিষ্কার সুযোগ রুখে দলকে রক্ষা করেছেন। তবু নকআউট পর্যায়ে তাদের প্রথম পরীক্ষাটা হবে সবচেয়ে কঠিন: আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির ইন্টার মায়ামি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাথে মুখোমুখি হতে হবে। ইন্টার মায়ামিতে খেলার কারণে মায়ামি মেসির সদ্য পরিচিত শহর—সেখানে মেসির জাদু থামিয়ে দেওয়ার দায়টা কেপ ভার্দের কাঁধে।
অন্যদিকে কেপ ভার্দের উত্থানের রাতে হতাশায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে উরুগুয়ে — দুই ড্র ও এক হারে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে গেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এছাড়া ১৯৯৪ সালের পর টানা ষষ্ঠবারের মতো গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হলো সৌদি আরবকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যায় স্পেন; তবে এখন ফুটবল বিশ্বের সব চোখ মায়ামির দিকে, যেখানে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের ছোট্ট দল মাঠে নামবে।














