ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জাপানের এমইউএফজি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলতে চায়

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং জাপানের সবথেকে বড় ব্যাংকিং গ্রুপ এমইউএফজিএ (Mitsubishi UFJ Financial Group) বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা খুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সোমবার ব্যাংকের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে বসে এই ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।

১৯৯০ সাল থেকে ঢাকায় এমইউএফজি কেবল প্রতিনিধি অফিস চালিয়ে আসছে। এখন তারা প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের বাজারেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বিস্তৃত করার সম্ভাবনা শনাক্ত করেছে। প্রতিনিধিদল বৈঠকে দেশে বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের উপযুক্ততা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য ও দিকনির্দেশনা চেয়েছে।

এমইউএফজি বিশেষ করে ‘করিডোর ব্যাংকিং’ মডেলে কাজ করতে আগ্রহী — অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক সেতু হিসেবে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, যদি এমইউএফজি পূর্ণাঙ্গ শাখা খুলে, তাহলে বাংলাদেশে থাকা জাপানি কোম্পানিগুলোর করপোরেট ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন অনেক সহজ হবে। জাইকা (JICA) প্রভৃতি বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এই ধরনের ব্যাংকের মাধ্যমে হলে পরিচালনাগত জটিলতা ও খরচ দুটোই কমবে।

বর্তমান দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ আনুমানিক ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও উন্নত ব্যাংকিং পরিষেবা ও যোগানশিলতার মাধ্যমে তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এমইউএফজি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এক উদ্বেগও তুলে আনে: দেশের ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে উচ্চ মাত্রায় খেলাপি (NPL) ঋণ রয়েছে, যা বিনিয়োগ ও শাখা সম্প্রসারণের জন্য কি না উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে সে বিষয়ে তারা সন্দিহান। তারা নিয়ন্ত্রক নীতিমালা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাজারের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থির পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

이에 대해 বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে জানান যে খেলাপি ঋণ সম্পর্কিত তথ্য এখন স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’র মাধ্যমে সমগ্র খাতের সংস্কার কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কার্যরত অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং তারা সন্তোষজনক মুনাফা রেকর্ড করেছে। গভর্নর ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ ধীরে ধীরে কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে বলে তসে ইঙ্গিত দেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদানে তারা প্রস্তুত। এমইউএফজির শাখা স্থাপন বাস্তবায়িত হলে এটি জাপান-মউং বাংলাদেশ আর্থিক যোগাযোগকে আরও মজবুত করবে এবং দেশটিতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে শাখা স্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সিদ্ধান্ত এমইউএফজির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির উপর নির্ভর করবে।