মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এখন বিকল্প উৎস হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির পরিমাণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে বাধা পড়ায় ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল মার্কিন স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। সংঘাতের আগে ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পেত। দেশের মাসিক মোট চাহিদি প্রায় ২০ লাখ টন হলেও, সংঘাতের ত্রাস শুরু হওয়ার পর গত এপ্রিলে আমদানির পরিমাণ হঠাৎ করে কমে মাত্র ৬ লাখ ৯৬ হাজার টনে নেমে এসেছিল।
গৃহস্থালী রান্নার প্রধান জ্বালানিই হওয়ায় এলপিজি সংকট এড়াতে ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে—কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না রেখে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং গ্রাসস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণে ত্বরান্বয় করেছে। দেশটির শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চলে বাড়িঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে এলপিজির ওপর সামগ্রিক নির্ভরতা আনুমানিক ১৫–২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার সূত্রে দাবি করা হয়েছে, চলতি জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১১–১২ লাখ টন এলপিজি ভারতে পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও বিকল্প সরবরাহ বাড়াচ্ছে; আমিরাতের জাতীয় তেল কোম্পানি ADNOC ওমানের সোহার বন্দর ব্যবহার করে জুনে আরও ৩–৪ লাখ টন এলপিজি পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেছে।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের এই বহুমুখী কৌশল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নজর কাড়ছে। সরকার ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি আনা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোই এই সংকটে স্থায়ী সমাধানের পথে প্রথম পদক্ষেপ হবে।














