ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৪২ বছর পর বড় পর্দায় ফের ‘সুপারগার্ল’

দীর্ঘ ৪২ বছর পর ডিসি ইউনিভার্সের জনপ্রিয় নারী সুপারহিরো ‘সুপারগার্ল’ বড় পরিসরে রূপালি পর্দায় ফিরে আসছে। সম্পূর্ণ নতুন গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে ২৬ জুন মুক্তি পাচ্ছে এবং একই দিন বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখানো হবে—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান জানাতে প্রস্তুত হাজারও ডিসি ভক্ত।

চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেন ক্রেইগ গিলেস্পি, যাকে আগেও ‘আই, টনিয়া’ ও ‘ক্রুয়েলা’য়ের মতো চার্মিং ও কাঁটাভাবে বলিপাড়ার কাজের জন্য দেখা গেছে। 이번 ছবিতে সুপারগার্ল বা কারা জোর-এল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক; তিনি ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজ থেকে বিশ্বদরবারে পরিচিতি লাভ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ‘সুপারম্যান’ ছবিতে ছোট একটি উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। পাশাপাশি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন মোমোয়া, ম্যাথিয়াস শোনার্টস ও ডেভিড কোরেনসওয়েট—এদের উপস্থিতি সিনেমাটিকে দিয়েছে হাই-প্রোফাইল স্টার পাওয়ার।

এইবারের সুপারগার্লকে পর্দায় দেখানো হয়েছে পুরোপুরি নতুন অ্যাংルে: সে অনাবৃত্ত, রাজকীয় বা শান্ত স্বভাবের সুপারম্যানের মতো নয়। ভূপৃষ্ঠে আসার আগে নিজের ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহ ক্রিপ্টন ও প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে পাওয়া কষ্ট তাকে কঠোর, লড়াকু ও বাস্তবমুখী করে তুলেছে। নিজের প্রিয় কুকুর ‘ক্রিপ্টো’কে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণের এক পর্যায়ে তার সাক্ষাৎ হয় রুথি নামের এক অনাথ কিশোরীর সঙ্গে; এরপর তারা এক ভয়ংকর দস্যু নেতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও ন্যায়ের সন্ধানে বিরাট এবং বিপজ্জনক আন্তঃগ্যালাক্টিক অভিযানে নামেন।

সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হল জেসন মোমোয়ার ‘লোবো’ চরিত্রের লাইভ-অ্যাকশন অভিষেক। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ছবিটির পরিণত, অন্ধকারময় এবং বাস্তবসম্মত আবহ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলচ্চিত্র সমালোচকরা এতে প্রদর্শিত ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে প্রায়ই ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন, যা চলচ্চিত্রটি আরও রহস্যময় এবং উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

হলিউড সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন ডিসি সিনেমাটিক ইউনিভার্স গড়ে তুলতে এবং সুপারগার্লকে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই সিনেমাটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘ চার দশক পর বড় পর্দায় এই নারীর প্রত্যাবর্তন কেবল আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেই নয়, বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যেও নতুন উৎসাহ ও আলোচনা সৃষ্টির কারণ হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

ট্রেলার, কাস্টিং ও প্রথম প্রতিক্রিয়ার আলোকে এখন দেখার বিষয়—সম্পূর্ণ মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা কতখানি পূরণ করতে পারবে। ডিসি প্রেমীরা অবশ্য ইতোমধ্যেই বড় পর্দায় ফেরার এই গল্প দেখে ব্যাপক উন্মাদনা প্রকাশ করেছেন। ২৬ জুন সেই উত্তেজনা বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে।