দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় নায়িকা ও প্রযোজক সামান্থা রুথ প্রভু ফের একবার প্রমাণ করলেন যে নারী-নির্ভর সিনেমাও বক্স অফিসে মহাকাব্যিক সফলতা ছড়াতে পারে। তার প্রযোজনায় ও অভিনয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু ছবি ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বব্যাপী ৪৩ কোটিরও বেশি আয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
শিল্পজগতে এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সাফল্য নয়—সামান্থার ক্যারিয়ারেরও এক নতুন মাইলফলক। এই ছবিটি তার পূর্ববর্তী নারী-নির্ভর হিট ‘ওহ! বেবি’ ও ‘যশোদা’কে ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ একক নায়িকা-নির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে উঠে এসেছে।
অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন গুণী নির্মাতা নন্দিনী রেড্ডি। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রসূত ‘ওহ! বেবি’-তে সামান্থা ও নন্দিনীর জুটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছিল; দীর্ঘ সাত বছর পর তাদের এই জুটির নতুন কাজের এত উল্লাসপ্রদ সাফল্যে পরিচালকও উৎসাহিত। নন্দিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, এই ঐতিহাসিক জয় মূলত দর্শকদের দান।
চিত্রনাট্যে সামান্থাকে ‘স্বর্ণা’ বা ‘ঝাঁসি’ নামে এক শক্তিশালী চরিত্রে দেখা যায়। গল্পের মূল সুরে দেখা যায়—বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে প্রথমবারের মতো যাওয়ার সময় তিনি নিজের জীবনের এক চরম ভয়াবহ ও ট্রমাটিক স্মৃতির মুখোমুখি হন। নতুন পরিবারকে গ্রহণ করাতে ও নিজেকে প্রমাণ করতে তাকে মানসিকভাবে লড়াই করতে হয়; সেই লড়াইই ছবির অনুভূতি-প্রবণ অংশটিকে জীবন্ত করে তুলেছে।
পর্দায় সামান্থার আবেগপ্রবণ yet লড়াকু অভিনয় দর্শক প্রায়ই আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে—তার এই দৃঢ়তা অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ প্রমাণ করে যে শক্তিশালী মহিলা চরিত্র ও থিমের উপর নির্মিত গল্পসমূহ দর্শককে টেনে আনতে সক্ষম।
বহু প্রযোজক-পরিচালক এখন আশা করবেন এমন গল্পের দিকে বেশি ঝুঁকবেন, যা নারী-কেন্দ্রিক হলেও বড় বাণিজ্যিক সফলতা এনে দিতে পারে। হল মালিকরা জানাচ্ছেন, ছবিটির এই সূচনা দেখে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছেন।
সামান্থার এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়—বাংলা ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রে মহিলা-নির্ভর গল্পের গুরুত্ব ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতারও একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। আগামী দিনগুলোতে ছবিটি আরও কত রেকর্ড গড়তে পারে, তা তাকিয়ে থাকবে দর্শকপ্রিয়তা ও বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর।














