বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানিরা নতুন তাগিদ নিয়ে এগোচ্ছে। গুগল, অ্যানথ্রোপিক, সেলসফোর্স এবং স্ট্রাইপ-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার মিলিয়ে বায়ু থেকে সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রযুক্তিতে আরও ৯১৫ মিলিয়ন (৯১ কোটি ৫০ লাখ) মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রথম আলোচ্য প্রতিবেদন করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল কার্বন নিঃসরণ কমানোই এখন আর যথেষ্ট নয়; বায়ুমণ্ডলে ইতোমধ্যে জমা থাকা কার্বনও সরিয়ে নেওয়া আবশ্যক। তাই ‘ডিরেক্ট এয়ার ক্যাপচার’ ও খনিজীকরণ (mineralization) মতো প্রযুক্তির বিকাশ এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ফ্রন্টিয়ার here একটি অগ্রিম ক্রয় প্রতিশ্রুতি — advanced market commitment — মডেল ব্যবহার করে নতুন স্টার্টআপগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিশ্চয়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যাতে তারা বড় বিনিয়োগ নিয়ে উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে পারে।
এই প্রযুক্তিগুলো মূলত বায়ু থেকে কার্বন শোষণ করে তা দীর্ঘমেয়াদিভাবে মাটির নিচে বা অন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার ওপর নির্ভর করে। ভারী শিল্প, বিমান ও জলপথের পরিবহন ইত্যাদি খাতে নিঃসরণ সম্পূর্ণরূপে শূন্যে নামানো কঠিন হওয়ায় সেই অবশিষ্ট নিঃসরণ সামলাতে কার্বন অপসারণই ভবিষ্যতে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে এসব প্রযুক্তির খরচ এখনও বেশি। কিন্তু বড় কর্পোরেট বিনিয়োগ ও ক্রেতার গ্যারান্টি থাকলে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে খরচ ধীরে ধীরে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে এই খাতের বড় ক্রেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
বিশ্ববাজারে কার্বন অপসারণ ও কার্বন ক্রেডিটের চাহিদা বাড়ছে; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সমমূল্যের কার্বন ক্রেডিট বিক্রি হয়েছে। তবে খাতটির টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ, স্পষ্ট সরকারি নীতি এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলে প্রশাসক ও বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বদলে যাওয়া জলবায়ু নীতিমালাও এই বাজারকে শক্তিশালী করতে পারে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই বিনিয়োগকে অনেকেই ২০৩৫ সালের নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।














