ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টানা দরপতনের পর ফের ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার

টানা দুই কার্যদিবসে দরপতনের পর তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের পুঁজিবাজারে ভালো ফিরতি দেখা গেছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে মূল্যসূচকগুলোও উর্ধ্বমুখী ছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ায় সূচক ও লেনদেন উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর প্রথমে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বাজার স্থিতিশীল হতে থাকে। দাম কমা-ওড়া তালিকায় থাকা অনেক কোম্পানি ধীরে ধীরে মূল্যবৃদ্ধির কাতারে চলে আসে এবং এভাবে দিনের শেষে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে। ডিএসইতে দিনশেষে ২৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের শেয়ার দাম বাড়ে; বিপরীতে কমেছে মাত্র ৫৫টির, এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫৪টির শেয়ারের দর বেড়েছে।

সূচকের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট বাড়ে এবং দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে ওঠে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে এবং পৌঁছায় ২ হাজার ১২৭ পয়েন্টে। তুলনায় মূল্যসূচকই বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমে এসে দাঁড়ায় ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা কম। লেনদেনে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস—তাদের শেয়ারের হাতবদল ছিল ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা; শীর্ষ তালিকায় এছাড়াও ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বাজারে লেনদেন হওয়া ২১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে এবং ৮০টির দাম কমেছে। সিএসইতে লেনদেনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে উঠে ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার তুলনায় অনেকটাই বেশি।

পুঁজিবাজারের এই ইতিবাচক প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগিয়ে তুলেছে এবং বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।