ঢাকা | বুধবার | ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মাদ্রাসায় বেতপেটায় ৯ বছরের শিশুর মস্তিষ্কে রক্তজমাট, সোনাডাঙ্গায় মামলা

খুলনার সোনাডাঙ্গায় একটি মাদ্রাসায় কথিত বেতপেটায় ৯ বছর বয়সী ইসমাইল শিকদারের শরীরে গুরুতর আঘাতের দাবি করেছেন তার পরিবার। শিশুটির দুই চোখের নিচে রক্ত জমাট বাঁধা এবং মাথা, মুখ ও গলার নিচে সুরক্ষিত লালচে ফোলা দেখা গেলে আশপাশের লোকজন শিউরে উঠেছেন। পরিবার অভিযোগ করেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষক বেত দিয়ে পেটিয়ে শিশুটিকে এভাবে আহত করেছেন।

ইসমাইলের বাবা মুদী ব্যবসায়ী ওমর ফারুক শিকদার রোববার গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাদ্রাসা পরিচালক হাফেজ আবদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে; তিনি এই সময় পলাতক রয়েছেন এবং তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনা ঘটেছে গত ১৭ জুন রাতের দিকে সোনাডাঙ্গার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমিতে। ওই রাতে ইসমাইলকে বেধরক মারপিট করা হয়েছিল, কিন্তু ওইদিন পরিবারের কাছে এই তথ্য জানানো হয়নি। একদিন পরে খবর পেয়ে বাবা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপরও প্রায় ৪৮ ঘন্টারও বেশি সময় পেরিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বোঝা গেছে, মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ‘‘শিশুটির একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের নিচে, মুখে ও গলার নিচে রক্ত জমাট বেঁধেছে। প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হলে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।’’

স্থানীয়রা জানান, ইসমাইল সরকারী কলেজ (সাবেক জয় বাংলা কলেজ) পাড়ায় তাদের বাড়ি। সে ওমর ফারুক শিকদারের একমাত্র সন্তান। গত বছর তাকে কোরআনে হেফজ করার জন্য ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া দুই তলার দ্বিতীয় তলা ভ্যাণ নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমি চালু করেন হাফেজ আবদুর রহমান। মাদ্রাসাটি কোনো সরকারি বা প্রতিষ্ঠানগত নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছিল। এখানে হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে মোট প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন; তাদের বয়স প্রায় ৮ থেকে ১৭ বছর।

ঘটনার পর থেকে পরিচালক আবদুর রহমান পলাতক রয়েছেন। হাফেজ মাসুদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ঘটনার পর আবদুর রহমান তাকে বলেছিল শিশুটিকে দুষ্টুমি করায় বেত দিয়ে ডাণ্ডা মারা হয়েছে। এক পর্যায়ে শিশুটির মাথা দেওয়ালে লেগে যাওয়ার কথা শুনেছেন তিনি। নারী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন, রাতে কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি; পরদিন সকালে চোখ ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেলে ফ্রিজ থেকে বরফ এনে দেওয়া হয়।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘সংবাদ পেয়ে আমরা মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা চলছে।’’

পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং মাদ্রাসার অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রতিকার নেয়া হবে বলে জানাননি। পরিবার ও খোঁজ-খবর রাখার জন্য স্থানীয় সমাজকর্মী ও এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন।