ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। সাম্প্রতিক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে একটি বিশাল ক্ষমতাভিষ্ঠ ‘‘বাণিজ্যকেন্দ্র’’ গড়ে উঠেছিল, যাকে তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে রনি এই গোষ্ঠীর গঠন, তাদের কর্মকাণ্ড ও বিপুল আর্থিক লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।
রনি বলেন, ওই ‘‘কোম্পানি’’ মূলত কয়েকটি শক্তিশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রতিস্পর্ধিত সুবিধা লুটে নিয়েছিল। দ্বিতীয়ত ছিলেন প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিন্যের কিছু সদস্য—রনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকে চট্টগ্রামভিত্তিক বা গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তাসহ নানাভাবে জড়িত ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের কিছু স্টেকহোল্ডারও ওই সময়ে প্রবল ভূমিকা নিয়েছিল; তারা নানা জরিপ-রিপোর্ট বা প্রকল্পের আচ্ছাদনে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক বিষয়েও রনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, আগের সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বাড়িয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অতিরিক্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার কোথায় ব্যয় হয়েছে—এই প্রশ্ন এখন তদন্তের দাবি করে তাকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে সুবিধা দিয়ে, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে নানা কেলেঙ্কারি করা হয়েছে; যার ফলে রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি টাকা নিঃশেষ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রনি বলেন, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে লক্ষণীয় পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে—তবে বাস্তবে তা দিয়ে দৃশ্যমান কোনো সংস্রব উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি। এসব খরচের সঠিক হিসাব-নিকাশ না থাকায় জনগণের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বলে তিনি যোগ করেন।
ভিডিওর শেষাংশে গোলাম মাওলা রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ব্যাখ্যা, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওই ‘‘কোম্পানি’’র শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে দমন ও অপমান করার মাধ্যমে নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি দেখিয়েছেন, ফলে এখন তাদের মধ্যে কোনো নৈতিক সাহস বা মোরাল কারেজ অবশিষ্ট নেই। রনির মতে, এই কারণেই গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখন রূপ বদলে বর্তমান সরকারের সাথে সমঝোতা করেছে, অন্য কেউ তাদের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছে এবং আরও অনেকে বিচার এড়াতে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে—এই সবের সম্মিলিত ফলেই বিচার ও জবাবদিহির পথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রনি ভিডিওতে দাবি ও তথ্য তুলে ধরলেও এগুলো বাস্তবে কতটা সত্য ও প্রমাণসম্মত, তা যাচাই করে দেখতে সংশ্লিষ্ট기관ের তদন্ত প্রয়োজন হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি শেষ করেন, অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির সঠিক হিসাব না হলে দেশে ন্যায্য বিচার ও উন্নয়ন সম্ভব হবে না।












