চলতি বছর অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব দল। আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বে চলছে সেই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার প্রভাব, যখন দলটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে দেশে ফিরে আসে। দীর্ঘ সময় মাঠে কার্যক্রম না থাকা পর এখন ২০২৮ যুব বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে নতুন করে দল গঠন ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি দেশের যুব ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করতে ইতোমধ্যে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ আয়োজন করে এবং পরে ৫০ জনকে নিয়ে বিশেষ একটি ট্রেনিং সেশন করেছে। সেখান থেকে বাছাইকৃত ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে খুলনায় গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে অনুশীলন ক্যাম্প, যা চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। দুই সপ্তাহের এই শিবিরে ক্রিকেটাররা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পাঁচটি প্রস্তুতিমূলক ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে; এর প্রথম পরীক্ষা গেমটি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল।
শিবিরে যোগ দিলেও সবচেয়ে 눈ে পড়ার বিষয় হলো প্রধান কোচ না থাকা। গত মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হওয়ায় এখনও নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়নি। স্থানীয় মহলে কয়েকজন কোচের নাম ঘুরলেও বোর্ড কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি; ফলে স্থায়ী প্রধান কোচ ছাড়াই খুলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বিসিবির সূত্রে জানা গেছে, প্রধান কোচ নিয়োগ নিয়ে দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে — সম্ভবত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই। প্রধান কোচ না থাকলেও ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের কারিগরি ও শারীরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা: ডলার মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম ও আরশাদ খান সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তারা ফিটনেস, টেকনিক ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে কাজ করছেন যাতে দল যত দ্রুত সম্ভব কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারে।
বিসিবির লক্ষ্য স্পষ্ট: তরুণদেরকে দ্রুত একটি শক্তিশালী ইউনিটে পরিণত করে ২০২৮ বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করা। প্রধান কোচ নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে শিবিরের কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। খুলনার এই ক্যাম্প তরুণ প্রতিভাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে—খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির দিকে এগোবে।












